Published : 01 Jan 2026, 01:48 PM
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের মধ্যে প্রথম মৃত্যু দেখেছে ইরান। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। অর্থনৈতিক চাপের জন্য তিনি তেহরানের ‘শত্রুদের’ দায় দিয়েছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি ভবনের প্রবেশপথ ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ছুড়ে।
খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন হওয়ার পর ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে রোববার তেহরানের গ্রান্ড বাজারের দোকানিরা ধর্মঘট শুরু করে, যা দেশজুড়ে ছড়িয়ে বুধবারও অব্যাহত ছিল।
এদিন তেহরানে এক ব্যবসায়িক ফোরামে পেজেশকিয়ান এই অস্থিরতার জন্য ‘বিদেশি হস্তক্ষেপকে’ দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন এক পরিস্থিতিতে আছি যেখানে বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করছে দেশের শত্রুরা আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভেতর থেকেও।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, তার দেশ ‘পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে’ জড়িয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, “শত্রুরা বোমা, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইরানকে জয় করতে ব্যর্থ হয়ে এখন অথনৈতিক চাপ তৈরি করে আমাদের ধরাশায়ী করার আশা করছে। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও ঐক্য বজায় থাকলে শত্রুরা ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না।”
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর থেকে ইরানের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে পড়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদকালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী ঘিরে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে হওয়া তেহরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন।
আর ইরান ২০১৫ সালে হওয়া ওই পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, এমন অভিযোগ তুলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপী শক্তিগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আবার ফিরিয়ে আনে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করার পর এ পদক্ষেপ নেয় ইউরোপীয় শক্তিগুলো।
২০২৫ সালে ইরানি মুদ্রা রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে এর প্রায় অর্ধেক মূল্য হারায়। ফলে ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।
এতে তেহরানের গ্রান্ড বাজারের ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু করে। এরপর তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিক্ষোভ ছড়ায় আর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দেশজুড়ে ছড়াতে থাকে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, লোরেস্তানের কুহদশত শহরে ‘দাঙ্গাকারীদের সহিংসতায়’ আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের ২১ বছর বয়সী এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাহিনীটির আরও ১৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা জানায়নি তারা।
আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা মিজানের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স প্রদেশের ফাসা শহরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা প্রাদেশিক গভর্নরের দপ্তরে হামলা চালিয়ে এর প্রবেশপথের একটি অংশ ধ্বংস করে।
আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এ ঘটনার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন। এ সময় হামলাকারীদের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়।