১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নেটো সম্মেলন শেষে গোপনে বিমান বদল: হুমকির কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

গত মাসে আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাধারণ ট্রাভেল পরিকল্পনা বদলে ভিন্ন একটি সামরিক বিমানে ওঠেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

নেটো সম্মেলন শেষে গোপনে বিমান বদল: হুমকির কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 06:42 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

তুরস্কে অনুষ্ঠিত নেটো সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য নিরাপত্তার হুমকির মুখে গোপনে বিমান পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। 

গত মাসে আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে তিনি সাধারণ ট্রাভেল পরিকল্পনা বদলে ভিন্ন একটি সামরিক বিমানে ওঠেন বলে নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি ও সিবিএস নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে আলাদা বিমানে যেতে বলেছিল। তারা যা বলে, আমাকে তা-ই মেনে চলতে হয়।”

তুরস্ক সফরের সময় ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে চড়ে আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ চড়ে ফিরবেন বলে ঘোষণা দেন।

গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে সব টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার নির্ধারিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে উঠতে দেখা যায়। তবে বিমানে ওঠার পর কৌশল হিসেবে বিপরীত পাশে থাকা একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে চড়ে গোপনে বিমানটি থেকে নেমে যান তিনি।

সেখান থেকে তাকে গোপন পাহারায় ছোট আকৃতির একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়, যা সাধারণত ভাইস প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭ বিমান। 

অন্যদিকে, ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ দৃশ্যত সাধারণ ভ্রমণের আবহ বজায় রাখতে ওই সামরিক বিমানে আলাদাভাবে ওঠেন। ছদ্মবেশ বজায় রাখতে ট্রাম্পকে বহনকারী গোপন সামরিক বিমানটির জন্য 'রিচ ১৮' কল সাইন ব্যবহার করা হয়। 

আর সাংবাদিকদের বহনকারী মূল 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানটি পূর্বনির্ধারিত নামেই আকাশে উড়াল দেয়, যাতে কেউ বুঝতে না পারে ট্রাম্প বিমানে নেই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও নিউ ইয়র্ক টাইমস সরকারের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের কাছেই কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ একজনকে দেখার খবর পায় মার্কিন গোয়েন্দারা। বিমানে ইরানের হামলার এই সুনির্দিষ্ট হুমকির কারণেই বিমান বদল করা হয়।

ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের সময় তিনি ছিলেন ইরানের ‘এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু’।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি এ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না। ট্রাম্প বলেন, “আমার ওপর প্রতিনিয়ত বহু হুমকি আসে। যেগুলো আপনারা জানেনও না।”

তিনি আরও দাবি করেন, যে বিকল্প সামরিক বিমানে তিনি উঠেছিলেন, সেটি হয়ত হামলার আরও বেশি ঝুঁকিতে ছিল, কারণ হামলাকারীরা ওই ছোট বিমানটিকেই লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করতে পারত।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার এক দিন পরই আঙ্কারায় এই গোপন দলবদলের ঘটনা ঘটে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং হোয়াইট হাউজের অধিকাংশ কর্মীদের না জানিয়েই পুরো কৌশলটি সাজানো হয়েছিল।

হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা অ্যাসোসিয়েশনের খবরে জানানো হয়, বিমানে ওঠার পর সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে বলা হয়। এক আলোকচিত্রী পর্দা তোলার চেষ্টা করলে তাকে দ্রুত তা বন্ধ করতে বলা হয়, যা সাংবাদিকদের মনে সন্দেহের জন্ম দেয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প গোপনে বিমান পরিবর্তন করলেও তার ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছদ্মবেশী মূল এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।

তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের পর ট্রাম্পকে বহনকারী বিকল্প বিমানটি যুক্তরাজ্যে বিমানবাহিনীর 'আরএএফ মিলডেনহল' ঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখান থেকে ট্রাম্প পুনরায় তার মূল প্রেসিডেনশিয়াল বিমানে ওঠেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।