১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজার বাসিন্দাদের ‘দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরে আলোচনা চালাচ্ছে’ ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি নেতারা এ পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গাজার বাসিন্দাদের ‘দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরে আলোচনা চালাচ্ছে’ ইসরায়েল
গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় ইসরায়েল হয়ে আসা ট্রাক থেকে ত্রাণসামগ্রী নিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2025, 05:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণ সুদানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি চুক্তি করতে অস্থিরতায় জর্জরিত আফ্রিকান দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে তিনটি সূত্র।

তবে এ খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফিলিস্তিনি নেতারা এ পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র তিনটি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি, তবে দক্ষিণ সুদান ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে। 

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির বাসিন্দাদের এমন এক দেশে যেতে হবে, বহু বছর ধরে চলমান রাজনৈতিক ও জাতিগত সহিংসতায় যেটি এমনিতেই কাবু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে কিছু বলি না।”

চলতি মাসেই নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি ফিলিস্তিনিদের স্বেচ্ছায় গাজা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত বলে বারবারই তাগাদা দিয়েছেন। 

আরব দেশগুলোসহ বিশ্বের সিংহভাগ দেশের নেতারাই গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র স্থানান্তরের ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, এমন কিছু হলে তা হবে আরেকটি ‘নাকবা’, যেমনটা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, সেসময় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে লাখো ফিলিস্তিনিকে দেশছাড়া হতে হয়।

গত মাসে দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্ডে সেমায়া কুম্বার ইসরায়েল সফরের সময় আফ্রিকার দেশটিতে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের প্রসঙ্গটি উত্থাপিত হয় বলে জানিয়েছে ওই তিন সূত্র। 

যদিও দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েল-দক্ষিণ সুদান এ বিষয়ক আলোচনার খবর প্রথম প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), মঙ্গলবার তারা বিষয় সম্বন্ধে অবগত ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি দেয়।

এ পরিকল্পনার ব্যাপার প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য ওয়াসেল আবু ইউসুফ বলেছেন, “আমাদের জনগণকে দক্ষিণ সুদান বা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব ও জনগণ প্রত্যাখ্যান করছে।” 

তার বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয়ের বিবৃতিতেও।

গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হামাসের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দিনকয়েক আগে দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা সফরকালে ইসরায়েলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যারেন হাসকেলও বলেন, তাদের মধ্যে আলোচনায় পুনর্বাসন প্রসঙ্গ ছিলই না। 

তবে গত মাসে কুম্বার সঙ্গে দেখা করা নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজা ছাড়তে আগ্রহী ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন গন্তব্য নিয়ে কিছু দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কথা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কখনোই তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি।