জেল থেকে ভোট ডাকাতির নিন্দায় ইমরান খান

কারাগারে পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর তার বক্তব্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন বোন আলিমা খান।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 06:20 PM
Updated : 20 Feb 2024, 06:20 PM

পাকিস্তানে এবারের ভোটের অনিয়মকে ‘সব ডাকাতির মা’ আখ্যা দিয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারান্তরীণ ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

এবার জেল থেকে একই সুরে গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট ডাকাতির নিন্দা জানালেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। সাধারণ নির্বাচনের আগে-পরের পুরো প্রক্রিয়াকেই তিনি ‘সব ডাকাতির মা’ আখ্যা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার পর তার বক্তব্য গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছেন বোন আলিমা খান। পাকিস্তানের ‘দ্য ডন’ পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।

এবারের ভোটের অনিয়মকে ‘সব ডাকাতির মা’ বলতে ইমরান বোঝাতে চেয়েছেন, নির্বাচনের আগে থেকেই পিটিআই সরকারি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। নির্বাচনে দলের ‘ব্যাট’ প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

বিভিন্ন এলাকায় দলের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নও জমা দিতে দেওয়া হয়নি। অনেক প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি প্রার্থীদের প্রচারেও বাধা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা এবং ভোটের দিন বিলম্বেরও সমালোচনা করেছেন ইমরান খান।

কারাগার থেকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন ‘সব ডাকাতির মা’ এখন বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে হাসির পাত্র হয়ে গেছে।

ইমরানের সঙ্গে কথা বলার পর আদিয়ালা জেলের বাইরে এসে তার বোন আলিমা খান গণমাধ্যমকে জানান, তার ভাই চান- পাকিস্তানে দায়মুক্তি সংস্কৃতির অবসান হোক এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম রক্ষায় জনরায়কে সম্মান করা হোক। 

ইমরান খান তার প্রধান প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এনকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, দলটি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা গ্রহণের জন্য সব আদর্শ বিসর্জন দিয়েছে। “ভোটকে সম্মান না করে তারা বুটকে সম্মান করেছে।”

ইমরান আরও বলেছেন, একটি দলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য নির্বাচকেরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা তুলে নিয়েছে। আর বিপরীতে তাকে মিথ্যা অভিযোগে ম্যারাথন বিচারের পর ৩২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। 

নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পর কারচুপির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের জনগণের প্রতিনিধি বাছাই করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে বলেই মনে করেন ইমরান।