১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তেহরানেই ৩৩ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৮৬৯টি পরিবারের আবাসন সহায়তা দরকার হয়ে পড়েছিল। তার মধ্যে এক হাজার ২৪৫টি পরিবারকে ২৩টি আবাসিক স্থাপনায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তেহরানেই ৩৩ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। ছবি: তাসনিম

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 03:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে কেবল তেহরানেই বিপুল সংখ্যক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রাজধানীর মেয়রের এক মুখপাত্র।

ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত তেহরানের প্রায় ৩৩ হাজার আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বুধবার এমনটাই বলেছেন তেহরানের মেয়রের মুখপাত্র আবদুল মোতাহার মোহাম্মদ খানি।

তিনি বলেন, এসব বাড়ির সবকটিতেই কোনো না কোনো ধরনের মেরামত প্রয়োজন। কোনো কোনোটি সামান্য ঠিকঠাক যেমন ভাঙা কাঁচ, দরজা বা জানালা বদলালেই চলবে। তবে অনেকগুলোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার বা পুরো ঘরটাই নতুন করে তোলা লাগবে, তিনি এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে ইরানি বার্তা সংস্থ তাসনিম। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলোর মধ্যে চার হাজারের বেশি বাসগৃহের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পৌরসভার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে বাড়িঘরের মালিকরাই ওই মেরামত শুরু করে দিয়েছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে শহর কর্তৃপক্ষই পুরো সংস্কারের দায়িত্ব নিচ্ছে, বলেছেন মোহাম্মদ খানি।

তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে তেহরানের ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৮৬৯টি পরিবারের আবাসন সহায়তা দরকার হয়ে পড়েছিল। তার মধ্যে এক হাজার ২৪৫টি পরিবারকে (সদস্য হিসাব করলে আনুমানিক ৪ হাজার ২০০ জন) ২৩টি আবাসিক স্থাপনায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবার স্বেচ্ছায় তাদের আত্মীয়দের বাড়ি বা অন্য শহরে চলে গেছে। ছোটখাট মেরামত শেষ হওয়ার পর ১৪০টির মতো পরিবার নিজের বাড়িতেই ফিরেছে, বলেছেন মুখপাত্র। 

তাসনিম লিখেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে ইরানে বৃহৎ সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের একাধিক ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডার ও হাজারের বেশি বেসামরিককে হত্যা করেছে।  

ইরানজুড়ে সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় আকাশপথে অব্যাহত হামলায় ব্যাপক হতাহতের পাশাপাশি অসংখ্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এর পাল্টায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকা এবং উপসাগরজুড়ে মার্কিন সেনাঘাঁটি ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।