Published : 16 Oct 2025, 05:39 PM
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি গ্রামকে মুক্ত করতে চালানো অভিযানে পাপুয়ার ১৪ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী।
পরে গ্রামটির বাসিন্দারা সেনা সদস্যদের সাদরে বরণ করে নিয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে।
মঙ্গলবার রাতে ইন্দোনেশিয়ার সেনারা পাপুয়ার সোয়াঙ্গামা গ্রামে অভিযান শুরু করে, বুধবার ভোরের দিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আনুমানিক ৩০ যোদ্ধার সঙ্গে তাদের গোলাগুলি শুরু হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা ইওয়ান দুয়ি প্রিহারতোনো।
গ্রামটির পুরো নিয়ন্ত্রণ পেতে বুধবার দুপুর হয়ে যায়, ১৪ বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধা নিহত হয়, বাকিরা অস্ত্র ও সরঞ্জাম ফেলে কাছের জঙ্গলে পালিয়ে যায়, বিবৃতিতে তিনি এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অভিযানটির কমান্ডার মেজর জেনারেল লাকি আভিয়ান্তো এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৈন্যদের পদক্ষেপ ছিল বৈধ ও যথোপযুক্ত এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে পাপুয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মুখপাত্র সেবি সামবোমের মন্তব্য চেয়ে রয়টার্স বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি।
১৯৬৯ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এক ভোটের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে ইন্দোনেশিয়ার নিয়ন্ত্রণে যায় পাপুয়া; তারপর থেকেই সেখানে স্বাধীনতাকামী ফ্রি পাপুয়া মুভমেন্টের তৎপরতা শুরু হয়।
শুরুর দিকে তারা ইন্দোনেশিয়ার জন্য খুব বেশি মাথাব্যথার কারণ না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের কাছে তুলনামূলক অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দেখা যাচ্ছে। সেনা চৌকিতে হামলা করে লুটের পাশাপাশি কালোবাজার থেকেও অস্ত্রশস্ত্র যোগাড়ে মনোযোগ বাড়িয়েছে তারা।
এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিদেশি নাগরিকদের অপহরণও করছে। নিউ জিল্যান্ডের এক পাইলটকে ১৯ মাস আটকে রাখার পর গত বছর ছেড়েছে তারা।
প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা ও সোনার মতো সম্পদে সমৃদ্ধশালী হওয়া সত্ত্বেও পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল।