বিশ্বে পরিশোধিত বিরল খনিজ উপাদানের ৯০ শতাংশই বেইজিংয়ের হাতে।
Published : 05 Apr 2025, 04:38 PM
মার্কিন শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিরল খনিজ উপাদান’ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের কথাও আছে।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, চীনের এ বিধিনিষেধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোয় বিরল খনিজের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্বে পরিশোধিত বিরল খনিজ উপাদানের ৯০ শতাংশই চীন উৎপাদন করে।
বিরল খনিজ হলো ১৭টি উপাদানের একটি গ্রুপ, যা প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গাড়ি, ক্লিন এনার্জি ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি বিরল খনিজ আমদানি করে এবং সবচেয়ে বেশি কেনে চীনের কাছ থেকে।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সম্পূরক শুল্কহার ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি নতুন ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে শতাধিক দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুসারে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৩৪ শতাংশ।
ট্রাম্পের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার চীনও মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
সামারিয়াম, গ্যাডোলিনিয়াম, টার্বিয়াম, ডিসপ্রোজিয়াম, লুটেনিয়াম, স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়ামসহ মাঝারি ও ভারী ‘বিরল খনিজ’ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আনার ঘোষণাও দেয় বেইজিং।
শুধু খনিজ উপদান নয়, স্থায়ী চুম্বকের মত ‘ফিনিশড’ পণ্য রপ্তানিতেও কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে চীন, যার বিকল্প পাওয়া বেশ কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কানাডাভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডামস ইন্টেলিজেন্সের’ প্রতিষ্ঠাতা রায়ান ক্যাস্টিলক্স বলেন, উচ্চক্ষমতার বিরল খনিজ চুম্বক পদার্থ রপ্তানিতে পুরোদমে বিধিনিষেধ আরোপ হলে তা বিভিন্ন দেশের শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের আঘাত হানবে।
“এছাড়া বিকল্প বাজার হিসেবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশ থেকে যে সীমিত সরবরাহ আসে, তাতে ব্যাপক চাপ তৈরি হবে।”
ক্যাস্টিলক্স মনে করেন, “আমদানিকারকরা এখন এটা দেখার অপেক্ষায় আছেন যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কিনা। কারণ কামানে বারুদ ভরা হয়ে গেছে, কিন্তু সেটা কোথায় আঘাত হানবে, সেটা কেউ জানেন না।”
বিরল খনিজ উপাদানে নিজেদের আধিপত্যকে চীন যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তকে তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেইজিং এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তিনটি ধাতু রপ্তানিতে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আর কিছু দেশে রপ্তানি আরও কড়াকড়ি করেছে তারা।
খনিজ সম্পদবিষয়ক আরেক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট ব্লুর সদস্য ডেভিড মেরিম্যান বলেন, এ ধরনের পণ্যে বিধিনিষেধ আরোপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোর ওপর চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে চীন, মিয়ানমার ও লাওসের বাইরে শুধু একটা এলাকার ভারী বিরল খনিজ উপাদানের খনি আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু ব্রাজিলের সেরা ভার্ডে নামের ওই খনির উপাদানও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পাঠানো হয় চীনে।
জার্মানিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মার্কাটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের’ বিশ্লেষক জ্যাকব গান্টার মনে করেন, চীনের এ সিদ্ধান্ত পশ্চিমা দেশগুলোকে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে।
“এই বিধিনিষেধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার ও কোম্পানিগুলোকে এর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে।”
আরও পড়ুন
মার্কিন পণ্যে অতিরিক্ত ৩৪% শুল্ক বসাচ্ছে চীন
শাস্তি নাকি উপহার? ট্রাম্পের শুল্ককে ৫ বৃহৎ অর্থনীতি যেভাবে দেখছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিলম্বে শুল্ক তুলে নেওয়ার আহ্বান চীনের