Published : 27 Feb 2025, 12:22 PM
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস চার ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছাড়তে শুরু করেছেন ইসরায়েল। এ পর্যায়ে ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্বের অংশ হিসেবে বুধবার মধ্যরাতে চূড়ান্ত এ বন্দি বিনিময় শুরু হয়।
হামাস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত।
যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিসেবে হামাসের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা বাকি ইসরায়েলিদের মুক্তির এটিই একমাত্র পথ।
রয়টার্স জানায়, দুই দিন ধরে অচলাবস্থা চলার পর বুধবার মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তির প্রথম পর্বের অংশ হিসেবে শেষ চার ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধরে নিয়ে যাওয়া এবং ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ৬২০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এর আগে শনিবার হামাস ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে মঞ্চে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হস্তান্তর করার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করে ইসরায়েল।
হামাস জীবিত জিম্মিদের ও কফিনে বহন করা মৃত জিম্মিদের ফেরত দেওয়ার আগে গাজায় জনতার সামনে মঞ্চে তুলে প্রদর্শনী করে আসছিল, এতে আপত্তি তোলে ইসরায়েল। জাতিসংঘও এর সমালোচনা করে।
এবার চার ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়ার সময় সে ধরনের কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, চার জিম্মির মৃতদেহ বহনকারী কফিন তারা বুঝে পেয়েছে।
এর আগে হামাস এই চার মৃত জিম্মিকে সাচি আইদান, ইতজাক এলগারাত, ওহাদ ইয়াহালোমি ও শ্লোমো ম্যানৎসার বলে শনাক্ত করে। তাদের সবাইকে ৭ অক্টোবর, ২০২৩ এ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের আক্রমণের সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু দপ্তর বলেছে, ইসরায়েল প্রথমে এই মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করবে আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জিম্মিদের পরিবারগুলোকে খবর দেওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো চার ইসরায়েলি জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছিল হামাস। কিন্তু সেখানে ইসরায়েলি জিম্মি শিরি বিবাসের মৃতদেহের বদলে ফিলিস্তিনি এক নারীর মৃতদেহ চলে গিয়েছিল, যাকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে হামাস। পরদিন শুক্রবার বিবাসের মৃতদেহ ফেরত দেয় হামাস।
এবার ভুল করে চলে যাওয়া অজ্ঞাত ওই ফিলিস্তিনি নারীর মৃতদেহটি ফেরত দিয়েছে ইসরায়েল। মৃতদেহটি বৃহস্পতিবার গাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে চিকিৎসা কর্মীরা জানিয়েছেন।
শেষ ফেরত পাঠানো চার জিম্মির কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা নির্ধারণ করতে পরে পূর্ণ ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে বলে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় প্রায় ৩০ জনের মতো জিম্মি নিহত হয়েছেন। এদের কাউকে কাউকে তাদের অপহরণকারীরাই হত্যা করে আর অনেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি
হামাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গাজা থেকে গ্রেপ্তার করা ৪৪৫ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারীকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। পাশাপাশি ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো দায়ে আজীবন কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি থাকা ১৫১ জন ফিলিস্তিনিকেও মুক্তি দেওয়া হবে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার ইউরোপীয় হাসপাতাল থেকে আসা ফুটেজে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বাস থেকে নামতে দেখা গেছে। তারা সাদা শার্ট ও ধূসর রংয়ের প্যান্ট পরা ছিলেন। কিছু বন্দি শারীরিকভাবে দুর্বল থাকায় তাদের বাস থেকে নেমে আসতে সাহায্য করেন রেড ক্রসের কর্মীরা।
গাজার খান ইউনিস শহরে ১২টি বাসে করে বন্দিদের নিয়ে আসা হয়েছে। গাজা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয় এবং আরও ৯৭ জন আজীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত বন্দিকে মিশরের কাছে হস্তান্তর করে। অন্য কোনো দেশ না নেওয়া পর্যন্ত এই বন্দিরা মিশরের থাকবেন।
চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি প্রথম পর্বে ৩৩ ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি, গাজার কিছু অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনার প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি ছিটমহলটিতে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ার কথা ছিল।
যুদ্ধবিরতির ৪২ দিনের এই প্রথম পর্বটি শনিবার শেষ হবে। হামাসের হাতে আরও ৫৯ জন ইসরায়েলি জিম্মি আছে। যুদ্ধবিরতি আরও বেড়ে দ্বিতীয় পর্বে গড়াবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি।