Published : 02 Nov 2025, 12:38 PM
ক্যারিবীয় অঞ্চলে ‘মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী পরিচালিত’ একটি নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক-পাচারকারী বলে সন্দেহ করা নৌযানে এটি তাদের সর্বশেষ হামলা।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ হামলা চালানো হয়; মাদক পাচারের রুটে মাদক পরিবাহী হিসেবে পরিচিত ওই নৌযানকে নিশানা করা হয়, রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ কথাই বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত দুই মাস ধরে ট্রাম্পের প্রশাসন ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক তাদের ভাষায় ‘মাদকবাহী নৌযানে’ হামলা চালিয়ে আসছে। নৌযানগুলো আদৌ কোনো মাদক পরিবহন করছিল কিনা, সে সম্বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণও দিতে পারেনি তারা। কিন্তু এসব হামলা এরই মধ্যে অন্তত ৬৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
সমুদ্রসীমায় মার্কিন এ হামলাগুলোকে ঘিরে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের কথার লড়াইও বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে অনেক বিশেষজ্ঞ এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছেন; তারা এমন হামলা চালানোর এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের আছে কিনা সে প্রশ্নও তুলছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যরাও ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের নেই বলেও তারা অনেকেই মনে করেন।
সাম্প্রতিক এসব হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বিপুল সংখ্যক সেনা, গোয়েন্দা বিমান, বোমারু বিমান ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। মোতায়েন হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডও।
ট্রাম্প অনেকদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচারকারী চক্রের নেতা বলে অভিযুক্ত করে আসছেন। মাদুরো এসব অস্বীকার করলেও তাকে উৎখাতেই যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক অবস্থান জোরদার করেছে বলে লাতিন আমেরিকাজুড়ে শঙ্কা কাজ করছে।
ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্প যে ভেনেজুলেয়ার সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে ‘কোনো সন্দেহ নেই’।
ওয়াশিংটন লাতিনের দেশটির সোনা, তেল ও তামার দিকে ‘লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে’ বলেও তার অভিযোগ।