Published : 19 Aug 2026, 12:03 AM
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতে পালিয়ে থাকা বিভিন্ন মামলার আসামির প্রত্যর্পণ দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষীয় সফরের শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছে ঢাকা। এমন পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতা নীতি’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
একইসঙ্গে তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন বলে আবারও আশা পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
মঙ্গলবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তারেক রহমানের দেশটি সফরের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কারণ ঢাকা মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়নি যে, তারেক রহমান নয়াদিল্লির আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন কি না।
অন্যদিকে দ্য স্টেটসম্যানের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিগগিরই ভারতে দ্বিপাক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা কম। তিনি আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এড়িয়ে যেতে পারেন বলে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আমার কাছে কোনো নতুন তথ্য এলে, আমি অবশ্যই তা সাংবাদিকদের জানাব। শুধু এতটুকু বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে সে বিষয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, “এ সংক্রান্ত বাংলাদেশের অনুরোধ (শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ) ভারতের প্রচলিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়র মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
“আমি বলতে চাই যে, ভারত পারস্পরিক স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আমাদের অবস্থান নতুন করে বলার কিছু নেই। তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে আমাদের অবস্থান যা ছিল, তা আপনারা ভালো করেই জানেন। এই অনুরোধগুলো আমাদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এর আগে গত রোববার ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়। এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে দ্বিপাক্ষীয় সফরের জন্য ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিতে সহায়তা করবে বলেও ঢাকার পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের চলমান জ্বালানি সহযোগিতা আছে। আমাদের নিজস্ব প্রয়োজন, পরিশোধন ক্ষমতা এবং ভারতের দিক থেকে জ্বালানির পর্যাপ্ততা বিবেচনা করে আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখছি।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিক যৌথ নদী রয়েছে। সুনির্দিষ্ট সংখ্যার কথা বলতে গেলে, দুটি দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পানি সংক্রান্ত যে কোনো আলোচনা বা সহযোগিতা দ্বিপাক্ষীয় যৌথ নদী কমিশন অথবা আমাদের বিদ্যমান নির্দিষ্ট সংলাপ কাঠামোর মাধ্যমেই সম্পাদিত হতে হবে।”