Published : 19 Dec 2025, 01:41 PM
রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেইনকে আগামী দুই বছর সহায়তা দিতে যৌথভাবে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
সেই সঙ্গে রাশিয়ার জব্দ করা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার করে কিইভকে অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ব্রাসেলসে দীর্ঘ আলোচনার পর শুক্রবার সকালে ইইউ সামিটের চেয়ারম্যান আন্তোনিও কস্তা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আজ আমরা ইউক্রেইনকে ৯ হাজার কোটি ইউরো দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছি। জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজেট থেকে এই ঋণের জোগান দেওয়া হবে।”
একইসঙ্গে নেতারা রাশিয়ার জব্দ সম্পদ দিয়ে তথাকথিত ‘রিপারেশনস লোন’ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ম্যান্ডেট ইউরোপীয় কমিশনকে দিলেও তা এখনই কার্যকর হয়নি। বেলজিয়ামের আপত্তির কারণে এ পথ আপাতত বন্ধ থাকছে। কারণ রাশিয়ার জব্দ সম্পদের সিংহভাগই রয়েছে বেলজিয়ামে।
ইইউতে রাশিয়ার ২১ হাজার কোটি ইউরোর সম্পদ রয়েছে জানিয়ে জোটের নেতারা বলছেন, ইউক্রেইনকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত এ সম্পদ জব্দই থাকবে।
রয়টার্স লিখেছে, শুরুর দিকে যৌথ ঋণের প্রস্তাবটি আটকে গিয়েছিল রাশিয়াঘেঁষা হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতায়। তবে শেষ পর্যন্ত হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র তাদের ওপর কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না শর্তে প্রস্তাবি রাজি হয়।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, “এটি ইউক্রেইনের জন্য ভালো খবর এবং রাশিয়ার জন্য খারাপ। আমাদের উদ্দেশ্য এমনটাই ছিল।”
ইইউ নেতারা বলেন, ইইউর সহায়তা না পেলে আগামী বছর অর্থসংকটে পড়ত কিইভ। এতে রাশিয়ার কাছে যুদ্ধে হেরে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হতো, যা ইইউর নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
রয়টার্স লিখেছে, রাশিয়ার জব্দ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় এখনই সমাধান করা যায়নি। বিশেষ করে বেলজিয়ামকে সম্ভাব্য রুশ প্রতিশোধের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রশ্নে সেটি আটকে গেছে।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ওয়েভার বলেন, “রিপারেশনস লোন নিয়ে এত প্রশ্ন ছিল যে আমাদের ‘প্ল্যান বি’-তে যেতে হয়েছে। যুক্তিবোধই জয়ী হয়েছে। ইইউ বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পেরেছে।”
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন ভিক্টর অরবান।
এক ইইউ কূটনীতিক বলেন, “অরবান যা চেয়েছিলেন, তাই পেয়েছেন।”
সম্মেলনে অংশ নিতে এসে একাধিক নেতা বলেন, ইউক্রেইনকে টিকিয়ে রাখতে অর্থায়নের সমাধান খুঁজে বের করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে ‘দুর্বল’ বলার এক সপ্তাহ পর এই ঐক্য দেখানোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেন, “আমাদের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।”
সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও রাশিয়ার জব্দ সম্পদ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় রুশ সম্পদ পুরোপুরি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত, এটাই হতে পারে সবচেয়ে স্পষ্ট ও নৈতিকভাবে ন্যায্য সিদ্ধান্তগুলোর একটি।”