Published : 23 Jun 2025, 04:25 PM
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর চলতি সপ্তাহে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে আরও সাহায্য চাইতে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মস্কো পাঠিয়েছেন।
সোমবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পুতিনের বৈঠক হওয়ার কথা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েল সম্প্রতি প্রকাশ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা এবং সেখানকার শাসনব্যবস্থা বদলে ফেলার সম্ভাবনার কথা বলছেন। এমন কিছু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর সঙ্কটে ফেলে দেবে বলে আশঙ্কা রাশিয়ার।
পুতিন কয়েকদিন আগে ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। মার্কিন হামলার আগে তিনি সব পক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সঙ্কট সমাধানে মস্কোর মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, সোমবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পুতিনকে খামেনির একটি চিঠি পৌঁছে দেবেন। চিঠিতে খামেনি পুতিনের সাহায্য চেয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
রাশিয়া যা করছে তাতে এখন পর্যন্ত ইরান সন্তুষ্ট নয় বলে একাধিক ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি চাইছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুতিন তেহরানের পক্ষে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখুন।
তেহরান কী ধরনের সাহায্য চাইছে তার বিস্তারিত বলেনি ওই সূত্রগুলো।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন আরাগচিকে অভ্যর্থনা জানাবেন, তবে তাদের মধ্যে কী কী নিয়ে আলোচনা হতে পারে তা বলেনি তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও রাশিয়া নিজেদের মধ্যে অবস্থান সমন্বয় করছে বলে আরাগচিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস।
পুতিন এর আগে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বেসামরিক খাতে ইরানে পরমাণু শক্তির প্রয়োজনীয়তা মিটিয়েই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাতের সমাধানে মস্কোর যে ভাবনা তা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
ক্রেমলিনের এই নেতা গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যে খামেনিকে হত্যা করতে চাইছে তার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র রাশিয়া এর আগে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর পরমাণু আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এ স্থায়ী সদস্য ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির অন্যতম পক্ষও ছিল।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের মাঝামাঝিতে, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নিয়েছিলেন।
ইরান সহায়তা চাইলেও মস্কোর পক্ষে এখন তাদেরকে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা, রাশিয়াকে এখন নিজেই ইউক্রেইনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তার ওপর ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আগ্রহী দেখা যাচ্ছে।