১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতেও আক্রমণ চালিয়েছ তেহরান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটি। ছবি: জেটফটো ডটনেট

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 12:39 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন। 

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিমান ঘাঁটির যেখানে মার্কিন বাহিনী ও হেলিকপ্টারগুলো আছে সে স্থানগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণটি চালানো হয়েছে। লারাক দ্বীপে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ও বেসামরিকদের হত্যার জবাবে আক্রমণটি চালানো হয়েছে।  

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণস্থলে আঘাত হেনেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে। তারা এর ‘জবাব ও শাস্তি’ দেবে বলে হুমকি দিয়েছিল। 

পরে আইআরজিসি জানায়, তারা ওয়াশিংটনের মিত্র জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত হেনেছে আর তাতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

আইআরজিসির বিবৃতি আসার পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

লারাকে হামলার মাধ্যমে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত হানল মার্কিন বাহিনী। লারাক দ্বীপে হামলার পর মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপকে ‘গুড়িয়ে দিচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তিনি আর বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

এসব পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসের মাইলফলক পার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো ঘটে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার চেয়ে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছিল। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলা শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পর্যদুস্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার করে যাকে তারা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

আরও পড়ুন: 

লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

জর্ডানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যস্থলে ইরানের পাল্টা হামলা