চীনে ‘শূন্য কোভিড’ নীতির বিরুদ্ধে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে

চীনের দক্ষিণের গুয়াংঝু নগরীতে সোমবার রাতে স্থানীয়দের বাধ্যতামূলক লকডাউন ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Nov 2022, 01:18 PM
Updated : 15 Nov 2022, 01:18 PM

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ‘শূন্য কোভিড’ নীতি গ্রহণ করা চীন সরকার যেখানেই রোগী শনাক্ত হচ্ছে সেখানেই কঠোর লকডাউন আরোপ করছে। যার বিরুদ্ধে জনমনে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।

শিল্পসমৃদ্ধ চীনের দক্ষিণের গুয়াংঝু নগরীতে সোমবার রাতে স্থানীয়দের বাধ্যতামূলক লকডাউন ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে বলে জানায় বিবিসি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়ি উল্টে দিচ্ছে এবং কোভিড নিয়ন্ত্রণ বেষ্টনী ছিঁড়ে ফেলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানায় বিবিসি।

দুই বছর আগে কোভিড-১৯ মহামারীর বিস্তার শুরু হওয়ার পর সংক্রমণের সব থেকে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে ‍গুয়াংঝুতে।

দেশজুড়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চীন সরকারের শূন্য কোভিড নীতি দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণ মানুষের কাছেও বিষয়টি দিন দিন নিপীড়নের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

গুয়াংঝুতে মূল ঝামেলা হয়েছে নগরীর হাইঝু জেলায়। সেখানে লকডাউন জারি করে বাসিন্দাদের নিজ নিজ বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ওই এলাকায় অনেক পরিযায়ী শ্রমিক বসবাস করেন, যাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

তাদের অভিযোগ, লকডাউনে কাজে বের হতে না পেরে যাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের জন্য কোনো ভাতার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাদের খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে। এদিকে, লকডাউনের মধ্যে নিত্যপণ্যের দামও ‍আকাশ ছুঁয়েছে।

গত কয়েক রাত ধরে হাইঝুর বাসিন্দাদের সাদা পোশাক পরিহিত কোভিড প্রতিরোধ প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে দেখা গেছে।

সোমবার রাতে যে বিবাদ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে এবং স্থানীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বাধ্যতামূলক লকডাউন আইন ভেঙে সড়কে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সেই আগুনে ঘি ঢালে একটি গুজব। গুজবে বলা হয়, যেসব কোম্পানি কোভিড পরীক্ষা করছে তারা নিজেদের পকেট ভারী করতে পিসিআর পরীক্ষায় বাস্তবের চেয়ে বেশি মানুষ আক্র‍ান্তের ভুয়া ফলাফল জানাচ্ছে।

চীনের অন্যান্য অঞ্চলেও একই গুজব ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানায় বিবিসি। কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক