Published : 06 Jan 2026, 03:02 PM
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা থেকে নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করছে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের মজুদ আছে ভেনেজুয়েলায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও গত দুই দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির তেলের উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। মার্কিন বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অবকাঠামো পুনর্গঠন করার লক্ষ্য নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মাদুরোকে আটকের আগে ও পরে তিনি ‘সব’ তেল কোম্পানির সঙ্গেই কথা বলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন তেল কোম্পানি, এক্সন মবিল, শেভরন এবং কনোকোফিলিপস-এর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সকে একটি সূত্র জানায়, “মাদুরোকে সরানোর আগে বা পরে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের সঙ্গে এই তিন কোম্পানির কারও কোনো আলোচনা হয়নি।”
তবে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের সঙ্গে এই তিন কোম্পানির নির্বাহীদের একটি বৈঠক হতে পারে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “আমাদের সব তেল কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় বড় বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।”
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় এবং শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বর্তমানে কেবল ‘শেভরন’ সীমিত পরিসরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে উগো চাবেজের আমলে সম্পদ জাতীয়করণের জেরে এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপস ভেনেজুয়েলা ছেড়েছিল এবং এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তেল কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রবেশের সুযোগ তৈরি হওয়ার খবরে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। সোমবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এনার্জি ইনডেক্স ২০২৫ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক্সন মবিলের শেয়ার ২.২ শতাংশ এবং শেভরনের শেয়ার ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।