Published : 15 Aug 2025, 11:34 AM
আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেইনে যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত বলেই তার ধারণা।
তবে শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেইনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কিকে নিয়ে অন্তত দ্বিতীয় একটি বৈঠক লাগবে, বলেছেন তিনি।
কিইভকে ভবিষ্যতে নতুন হামলার ঝুঁকিতে ফেলে দেবে, শুক্রবার অ্যাঙ্করেজের বৈঠকে পুতিন ও ট্রাম্প যেন এ ধরনের কোনো চুক্তিতে না পৌঁছান, তা নিশ্চিত করতে গত সপ্তাহে জেলেনস্কি ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ করেছেন।
“আমার ধারণা, প্রেসিডেন্ট পুতিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজি হবেন, জেলেনস্কিও রাহি হবেন। দেখা যাক তারা একসঙ্গে কিছু করতে পারেন কিনা,” হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অ্যাঙ্করেজের বৈঠক থেকে কোনো যুদ্ধবিরতি আসবে বলে আশাবাদও কম এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সে কারণেই সম্ভাব্য দ্বিতীয় বৈঠকের জল্পনাও উসকে দিয়েছেন তিনি, এবং সে বৈঠকে আরও দেশের নেতাদের দেখা যেতে পারে বলেও তার ধারণা।
“আমার ধারণা এটা খুব ভালো একটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে দ্বিতীয় বৈঠক, যেটি আমরা করতে যাচ্ছি। আমরা প্রেসিডেন্ট পুতিন, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি, আমি, হয়তো ইউরোপীয় কয়েক নেতাকে নিয়ে বৈঠক করতে যাচ্ছি। হয়তো হবে না। আমি জানি না,” বলেছেন তিনি।
পুতিনও এদিন আলাস্কার বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে তার ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই শীর্ষ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ নেতার এ বৈঠকের দিকে সারা বিশ্বই তাকিয়ে আছে। বৈঠকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে হওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই অনেকের অনুমান।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে পুতিনকে বলতে শোনা যায়, “আমার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বৈরিতা থামাতে, সঙ্কট নিরসনে ও এই সংঘাতে সম্পৃক্ত সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সক্রিয় ও আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
“আমাদের দুই দেশ, ইউরোপ এবং সামগ্রিকভাবে সারা বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এসব হচ্ছে; এমনটা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে পরবর্তী পর্বে আমরা কৌশলগত মারণাস্ত্র (পারমাণবিক অস্ত্র) নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি।”
তার এ বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, আলাস্কায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে এবং সেখানে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গও তুলতে পারে।
পুতিন ও ট্রাম্প এ বৈঠকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলতে পারেন বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা।
আলাস্কার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প, তবে এটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন হবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত। এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, কোনো শান্তি চুক্তি হলে তাতে সীমানা ও ভূমি অদলবদল হতে পারে।
“এই বৈঠক হতে যাচ্ছে দাবা খেলায় চাল দেওয়ার মতো। এই বৈঠক দ্বিতীয় আরেক বৈঠকের সুযোগ তৈরি করবে, যদিও (আলাস্কার) এ বৈঠক সফল না হওয়ার সম্ভাবনাও ২৫ শতাংশের মতো,” বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইউক্রেইন নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছানোর দায়িত্ব পুতিন আর জেলেনস্কির।
“আমি তাদের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবো না,” বলেছেন তিনি।
রাশিয়ার দখলে এখন যুদ্ধ পূর্ববর্তী ইউক্রেইনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড। কিইভ ও তার মিত্রদের আশঙ্কা, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠককে কাজে লাগিয়ে মস্কো তাদের দখল করা জমির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করে নিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কূটনীতিক বলেছেন, “আগামী কয়েক ঘণ্টায় কী যে হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে একধরনের আতঙ্কে আছি। গতকাল ইউরোপের (নেতাদের) সঙ্গে ট্রাম্পের ভালো ফোনালাপ হয়েছে, কিন্তু সেটা ছিল গতকাল।”
শুক্রবার আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত দেড়টা) এক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্টের যে বৈঠক হতে যাচ্ছে, তা চার বছরের মধ্যে প্রথম। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন পুতিন। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেইনে শুরু হয় তার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’।