১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধবিরতি বানচালে নোংরা খেলায় নেতানিয়াহু: হামাস

চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ধাপের সব খুঁটিনটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের সরকার এখন পর্যন্ত আলোচনায় বসেনি।

যুদ্ধবিরতি বানচালে নোংরা খেলায় নেতানিয়াহু: হামাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রকার কেপটাউনে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে বিক্ষোভ। ছবি রয়টার্সের

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Feb 2025, 05:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:53 AM

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বানচালের চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস বলেছে, চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় ধাপের সব খুঁটিনটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও ইসরায়েলের সরকার এখন পর্যন্ত আলোচনাতেই বসেনি।  

শনিবার ৪২ দিন মেয়াদী যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হচ্ছে। 

দ্বিতীয় ধাপে সব ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে দুই পক্ষ আগে নীতিগতভাবে একমত হলেও আলোচনা ছাড়া তা চূড়ান্ত হবে না। 

“আমাদের বিশ্বাস, এটি ইসরায়েলের ডানপন্থি সরকারের আরেকটি নোংরা খেলা, যা চুক্তি বানচাল ও দুর্বল করতে এবং যুদ্ধের পথে ফিরে যাওয়ার বার্তা দিতে চায়,” শনিবার আল জাজিরাকে এমনটাই বলেছেন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য বাসেম নাইম।

তার এ ভাষ্যের একদিন পর ইসরায়েল ৬২০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তিও পিছিয়ে দেয়। অথচ চুক্তির প্রথম ধাপের শর্ত অনুযায়ী শনিবার ৬ ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে তাদের এ ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। 

তেল আবিব এখন বলছে, ‘অপমানজনক অনুষ্ঠান ছাড়া’ পরবর্তী জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এ ৬২০ ফিলিস্তিনিকে ফেরত পাঠানো হবে না। 

জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার আগে তাদের অনেক লোকজনের সামনে মঞ্চে ওঠানো হচ্ছে, রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তরের আগে কখনো কখনো তাদের দিয়ে বক্তব্যও দেওয়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ নিহত জিম্মিদের কফিনগুলোও ভিড়ের মধ্য দিয়ে বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব নিয়েই আপত্তি তুলেছে ইসরায়েল।

জাতিসংঘও জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তরে হামাস শ্রদ্ধাশীল ছিল না জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা ও প্রায় আড়াইশ জনকে অপহরণ করার পর গাজায় সাঁড়াশি অভিযানে নামে তেল আবিব। সোয়া এক বছরের অসম যুদ্ধে তারা গাজার ৪৮ হাজারের বেশি বাসিন্দার প্রাণ কেড়ে নেয়। 

পরে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুইপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যার প্রথম ধাপে কয়েক ডজন জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে হাজারো ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলের আংশিক সেনা প্রত্যাহার এবং যু্দ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে ত্রাণ সরবরাহ খোলা রাখার শর্তে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল। 

“প্রথম ধাপেও শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, যে পরিমাণ ত্রাণ গাজায় ঢুকতে দেওয়ার কথা ছিল, তার বেশিরভাগই ঢুকতে দেওয়া হয়নি, নেতজারিম করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহারও স্থগিত করা হয়েছে,” বলেছেন নাইম।

তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লংঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এখনও চুক্তির অধীনে থাকা শর্ত মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। 

আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল গাজায় ৬০ হাজার অস্থায়ী ঘর ও দুই লাখ তাঁবু ঢোকার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ওই শর্ত তারা মানেনি। ভূখণ্ডটির ২৪ লাখ বাসিন্দার ৯০ শতাংশের বেশি এখনও উদ্বাস্তু জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

নেতানিয়াহু এর মধ্যে কয়েকবারই গাজায় ফের যুদ্ধ শুরুর হমকি দিয়েছেন। বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে গাজার দখল পেতে চান, তা বাস্তবায়নেও তিনি ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। 

যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পকে আর গাজা দখলে নেওয়ার কথা বলতে শোনা যাচ্ছে না। 

ডানপন্থি রাজনীতিক নেতানিয়াহু বারবার এও বলেছেন, তিনি গাজা যুদ্ধে হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ধ্বংস করাসহ যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তা পূরণ করেই ছাড়বেন। 

দ্বিতীয় ধাপে যেতে প্রথম ধাপের সব শর্ত ঠিকঠাক পূরণ হয়েছে কি না তা নির্ধারণে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় এখনও ভোট হয়নি।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানায়, হামাসের সঙ্গে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়ার ভার তিনি তার কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডার্মারকে দিয়েছেন।  

আগের দফার আলোচনাগুলোতে ইসরায়েলের হয়ে তাদের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটের প্রধান রোনেন বার ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান দেদি বার্নিয়া নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে মোটেও আগ্রহী নন। 

“তিনি এই ধাপ নিয়ে আগ্রহী নন, এর কারণ হচ্ছে এখানে ৪২তম দিন থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী কমিয়ে আনা নিয়ে কথা হবে, অর্থ্যাৎ আর সপ্তাহখানেক পর থেকেই। ৫০তম দিনে সৈন্য কমানো নয়, প্রত্যাহারের কথা আছে,” তেল আবিব থেকে আল-জাজিরাকে এমনটাই বলেছেন সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এলন পিঙ্কাস।     

তার মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চললে এক সময় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, যা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর জন্য সুবিধাজনক হবে না।