Published : 18 Jan 2026, 12:16 PM
ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ১১ আরোহীসহ নিখোঁজ এটিআর ৪২-৫০০ মৎস্য নজরদারি বিমানটির ভগ্নাবশেষ খুঁজে পেয়েছে কিন্তু এখনও আরোহীদের কোনো খোঁজ পায়নি।
শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে দেশটির বিমান সংস্থা ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের এই নজরদারি বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি তখন দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মারোস অঞ্চলে কুয়াশাচ্ছন্ন একটি পর্বতের কাছাকাছি ছিল।
সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নজরদারি করতে ইন্দোনেশিয়ার সাগর ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের ভাড়া করা বিমানটিতে আটজন ক্রু সদস্য ও তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা মন্ত্রণালয়টির কর্মী ছিলেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনওয়ার স্থানীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, বিমানটির ভগ্নাবশেষ পাওয়ার পর নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধান করতে উদ্ধারকারী সংস্থা ১২০০ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তাদের খুঁজে বের করাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের আশা, কয়েকজন হয়তো বেঁচে আছেন আর তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে পারবো আমরা।”
ইয়োগিয়াকার্তা প্রদেশ থেকে রওনা হওয়া বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের দিকে যাচ্ছিল।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আনদি সুলতান রয়টার্সকে জানান, স্থানীয় উদ্ধারকারীরা রোববার সকালে মারোস অঞ্চলে বুলুসারাং পর্বতের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।
এই পর্বতটি দ্বীপবহুল দেশ ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে।
সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হেলিকপ্টারের ক্রুরা সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বিমানটির জানালার ভগ্নাবশেষ দেখতে পান। আর ৭টা ৪৯ মিনিটের দিকে আমরা বিমানটির বড় একটি অংশ দেখতে পাই, সেটি বিমানটির মূল কাঠামো বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পর্বতের ঢালে বিমানটির লেজের অংশও দেখা গেছে।”
সুলতান জানান, ধ্বংসাবশেষগুলো যেখানে পাওয়া গেছে সেখানে উদ্ধারকারীদের মোতায়েন করা হয়েছে, তবে ঘন কুয়াশা ও বন্ধুর পার্বত্য এলাকার কারণে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
উদ্ধারকারী সংস্থার শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে পর্বতের ওপরে বিমানটির একটি জানালা বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে, সেখানে ঘন কুয়াশা ও প্রবল বাতাস বইছিল।
কী কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করা হচ্ছে বলে সুলতান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ঘটনার ফল হিসেবে অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ফরাসি-ইতালীয় বিমান নির্মাতা কোম্পানি এটিআর এয়ারের এটিআর ৪২-৫০০ একটি আঞ্চলিক টার্বোপ্রপ বিমান। এই বিমানের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪২ থেকে ৫০ জন।
ফ্লাইটরেডার২৪ এর তথ্য থেকে জানা গেছে, উপরের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি বিমান জাভা সাগরের প্রায় ১১ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছিল, এর এক পর্যায়ে ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেটি দ্রুত নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছিল। বিমানটি ০৪২০ জিএমটির সময় মাকাসার বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল, এর শেষ সিগন্যাল সেখান থেকেই পাওয়া গেছে।