নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল

বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শাসনকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ করছেন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 06:55 PM
Updated : 22 Jan 2023, 06:55 PM

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অবসানের দাবিতে ব্যানার উড়িয়ে রাজধানী তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে আনুমানিক এক লাখ ১০ হাজার মানুষ।

বিক্ষোভমিছিল ছড়িয়ে পড়েছে নগরীর কেন্দ্রস্থল জুড়ে। গত এক দশকের মধ্যে ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলোর অন্যতম বিক্ষোভ এটি।

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি এই নেতানিয়াহুর সরকারে আছে অতিমাত্রায় জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় কট্টরপন্থিরা। বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শাসনকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ করছেন।

এক বিক্ষোভকারী বিবিসি-কে বলেন, “এই সরকার বিপজ্জনক। এই সরকার নারীদের জন্য, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের জন্য এমনকী গরিব মানুষদের জন্যও ভাল হবে না; আর ফিলিস্তিনিদের জন্য তো অবশ্যই নয়।”

ইসরায়েলের চারটি ভিন্ন নগরীতে দ্বীতিয় সপ্তাহের মতো এত বড় গণবিক্ষোভ চলছে। নেতানিয়াহুর সরকার আদালত সংস্কারের যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার বিরুদ্ধেই ফুঁসে উঠেছে মানুষ।

বিচারবিভাগের ক্ষমতা আমূল কমানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে, দুর্নীতির বিস্তার ঘটবে এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্ষুন্ন হবে বলে সমালোচনা করছেন সরকার-বিরোধীরা।

বিচারবিভাগের ক্ষমতা কমানো হলে পার্লামেন্টের সদস্যরা ভবিষ্যতে আদালতকে উপেক্ষা করে এমন সব আইন পাস করতে পারবেন - যা আদালত এর আগে খারিজ করে দিয়েছে।

সরকারের এই পরিকল্পনার বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে ইসরায়েলে যে গণতান্ত্রিক 'চেক এ্যান্ড ব্যালান্স' বা ক্ষমতার ভারসাম্য আছে তা হুমকির মুখে পড়বে।

নেতানিয়াহু সরকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগেও রাজনীতিবিদদের ভূমিকা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে; যাতে মন্ত্রীরা তাদের নিজস্ব আইনি উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই ঘুষ, জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় বিচারাধীন থাকার সময়েই বিচার বিভাগে এই বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমালোচকরা বলছেন, নেতানিয়াহু আদতে নিজে জেলে যাওয়া এড়াতেই বিচারকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের এমন চেষ্টা নিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বিবিসি-কে বলেছেন, তারা মনে করেন সরকার যা করছে তা নৈতিক দিক থেকে ভুল।

বিক্ষোভে যোগ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও। তিনি বলেন, জনগণ যারা এই দেশকে ভালবাসে তারা গণতন্ত্র এবং আদালতকে রক্ষা করতে এই বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে এসেছে।

“জয় না আসা পর্যন্ত আমরা হাল ছাড়ব না,” বলেন তিনি।

টানা ১২ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। গতবছরের নির্বাচনে তিনি আবার সগৌরবে ফিরে এসেছেন।

গতবছরের নির্বাচনের সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল, প্রকাশ্য আরব বিদ্বেষী ধর্মীয় কট্টরপন্থিদের সাফল্য। নেতানিয়াহু আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে প্রভাবশালী ডানপন্থি রাজনীতিবিদ ইতামার বেন জিভির মতো কট্টরপন্থিদের নিয়ে সরকার গড়বেন।

ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ডানপন্থি সরকার গড়েছেনও তিনি। ক্ষমতায় এসেই এ সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি নির্মাণ সম্প্রসারণকে তাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার বলে ঘোষণা করেছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক