ইরানে যুদ্ধ শেষ করতে শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব পাকিস্তানের
শান্তি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে- বলছে পাকিস্তান।
ইরানে চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থাতাকারী হিসাবে শান্তি আলোচনা আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষ সম্মত হলে পাকিস্তান শান্তি আলোচনা আয়োজন করতে আগ্রহী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে সংলাপের চলমান প্রচেষ্টাকে পাকিস্তান স্বাগত জানাচ্ছে এবং পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে পাকিস্তান সংকটের সর্বাঙ্গীন সমাধানের জন্য একটি অর্থবহ এবং চূড়ান্ত আলোচনার সুবিধার্থে আয়োজক হতে প্রস্তুত এবং তা করতে পারলে সম্মানিত বোধ করবে।”
পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, শান্তি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও ‘যদি’র ওপর নির্ভর করছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে।
এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ও কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, যুদ্ধ অবসান নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদে দুইপক্ষের মধ্যে সরাসরি এই বৈঠক হতে পারে এ সপ্তাহেই।
তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তখনও সরকারিভাবে আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিলেন।
এর ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরান কোনো ধরনের আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের আলোচনা যথেষ্ট সফল হয়নি, এমন দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালায়। যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান সে সময় দাবি করেছিল যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল।
এরপর থেকে ইরান পাল্টা হিসেবে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে আক্রমণ এবং উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
এছাড়া ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর ফলে ইতিহাসে জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।
