২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

উইঘুর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ করা চীনা যুবককে আশ্রয় দিল যুক্তরাষ্ট্র

গুয়ান হেং নামের এই চীনা যুবক ২০২০ সালে শিনঝিয়াংয়ে অবস্থিত কয়েকটি আটককেন্দ্রের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করেন। পরে তিনি সেই ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেছিলেন।

উইঘুর নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশ করা চীনা যুবককে আশ্রয় দিল যুক্তরাষ্ট্র
শিনঝিয়াংয়ের উইঘুর আটককেন্দ্রের গেটে নিরাপত্তা রক্ষীদের পাহারা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jan 2026, 08:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:49 PM

চীনের শিংঝিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গোপন ভিডিও ধারণ এবং তা প্রকাশের জন্য নিজ দেশে নিপীড়নের আশঙ্কায় থাকা এক চীনা নাগরিকের আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আদালতে অভিবাসন বিষয়ক বিচারক রায় দেন যে, চীনে ফেরত পাঠানো হলে ওই ব্যক্তির নিপীড়নের শিকার হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি আছে। এরপরই গুয়ান হেং নামের এই চীনাকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়া হল।

গুয়ান ২০২০ সালে শিনঝিয়াংয়ে অবস্থিত কয়েকটি আটককেন্দ্রের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করেন। পরে তিনি সেই ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেছিলেন।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গুয়ান যেসব আটককেন্দ্রের ভিডিও করেছেন, সেইসব শিবিরে ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিমকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক রাখা হয়েছে।

ভিডিও প্রকাশের পর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মুখে চীন ছেড়ে অবৈধপন্থায় ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান গুয়ান হেং। এরপরই তিনি আশ্রয়ের আবেদন করেন। 

তবে গতবছর অগাস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের গণহারে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন অভিযানের আওতায় গুয়ানকে আটক করা হয়। সেই থেকে তিনি আটকাবস্থায় আছেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাকে উগান্ডায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে গুয়ানকে নিয়ে মানবাধিকারকর্মী, সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্বেগের মুখে গত ডিসেম্বরে সেই পরিকল্পনা বাতিল হয়।

বুধবার আদালতের শুনানিতে গুয়ান হেং আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের সুযোগ পাওয়ার উদ্দেশে তিনি ভিডিও ধারণ বা প্রকাশ করেননি।

ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কারাগার থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি নিপীড়িত উইঘুরদের জন্য সহানুভূতি অনুভব করেছি।” 

বিবিসি জানায়, চীন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর গুয়ান তার ধারণ করা ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করেছিলেন। প্রথমে তিনি গিয়েছিলেন হংকং। তারপর ইকুয়েডর এবং বাহামা পাড়ি দিয়ে গুয়ান নৌকায় করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছান।

ভিডিওতে গুয়ানকে চীনের শিনঝিয়াংয়ের কয়েকটি স্থানে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে এবং তার ভাষায়, সেখানকার কয়েকটি ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের’ চিত্র ধারণ করতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের নিপীড়নকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এমনকি গণহত্যার নামান্তর বলে সমালোচনা করে আসছে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।