Published : 28 Sep 2025, 10:28 AM
ভারতের তামিলনাডুতে তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) দলের প্রধান অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয় থালাপাতির সমাবেশে পদদলনের এক ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু এবং আরও ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিজয় নির্বাচনের জন্য রাজ্যজুড়ে ঘুরে ঘুরে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তার মধ্যে শনিবার তামিলনাডুর কারুর জেলায় এ ঘটনাটি ঘটে।
কারুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সেখানে তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন সাংবাদিকদের বলেন, “এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন নারী, ১৩ জন পুরুষ, ৫ জন বালিকা ও ৪ জন বালক। আহত ৫১ জনকে নিবিড় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, তাদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ২৫ জন নারী।”
এর আগে রাজ্যটির বিধায়ক সেন্থিল বালাজি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পদদলনের এ ঘটনায় আহত ৫৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, বিজয়ের কথা শুনতে প্রচুর মানুষ সমাবেশে হাজির হয়েছিলেন, এরই এক পর্যায়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে ঘটনাটি ঘটে।
ভিড়ের চাপ অসহনীয় হয়ে উঠলে রাজনৈতিক দলটির কয়েকজন কর্মী ও শিশুসহ বহু মানুষ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) জানিয়েছেন, হঠাৎ মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ার পর আতঙ্ক তৈরি হয়, চাপের কারণে অনেকেই তাদের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না।
কর্মীদের সতর্ক সঙ্কেতের মুখে বিজয় মাঝপথে তার বক্তৃতা থামিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রচারণা বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যাওয়া লোকজনকে সহায়তা করতে ভিড়ের দিকে পানির বোতল ছুড়ে দিতে থাকেন।
এরমধ্যে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে আসলেও রাস্তা মানুষজনে পরিপূর্ণ হয়ে থাকায় ভেতরে ঢোকার পথ পাচ্ছিল না, এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তারা এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, বিশাল সংখ্যা মানুষ আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অসহনীয় চাপ তৈরি হয়, এতে বহু মানুষ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান আর তখন আতঙ্কিত লোকজন ছুটাছুটি শুরু করলে পদদলনের ঘটনাটি ঘটে।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই জায়গায় ‘অন্ততপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ সমবেত’ হয়েছিল।
সমাবেশে উপস্থিত হতে বিজয়ের গাড়িবহরের ছয় ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়, এর মধ্যে স্রোতের মতো মানুষ সমাবেশস্থলে এসে হাজির হয়।
তিন দশক ধরে বিজয় তামিল সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। গত বছর তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) দল গঠন করে রাজনীতিতে নামার পর থেকে তার সমাবেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিজয়।
টিভিকে একইসঙ্গে তামিলনাডুর ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তীব্র সমালোচক।
স্থানীয় গণমাধ্যমে আসা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, বড় একটি প্রচারণা বাসের চারপাশে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন আর বাসটির ছাদে দাঁড়িয়ে বিজয় বক্তব্য রাখছেন। জনতা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তিনি বক্তৃতা থামিয়ে তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন।
“আমার মন ভেঙে গেছে; আমি অসহনীয়, অবর্ণনীয় কষ্ট ও দুঃখের মধ্যে আছি,” সামাজিক মাধ্যম এক্স এ লিখেছেন বিজয়।
তিনি আরও বলেছেন, “কারুরে যারা প্রাণ হারিয়েছেন সেই প্রিয় ভাই ও বোনদের পরিবারগুলোর প্রতি আমি আমার গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।”
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী তিরুচিরাপল্লী ও সালেম জেলা থেকে ৪৪ জন চিকিৎসককে কারুরে পাঠানো হয়েছে।
রোববারের শুরুর দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য তামিলনাডু একজন সাবেক বিচারপতিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।
“কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে,” বলেছেন তিনি।
এর আগে তিনি নিহতদের পরিবার প্রতি ১০ লাখ রুপি করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিজয়ের সমাবেশে এর আগেও ভিড়ের চাপে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের অক্টোবরে তার রাজনৈতিক দলের প্রথম সমাবেশেই অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।
প্রচারণা গাড়িবহরের সংখ্যা সীমিত রাখাসহ পুলিশের বেঁধে দেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধ, অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন ইত্যাদি সত্ত্বেও ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতিতে বারবার স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।