Published : 06 Feb 2025, 09:35 PM
অস্ট্রেলিয়ায় এখন থেকে নাৎসি স্যালুট দিলে, ঘৃণার প্রতীক প্রদর্শন করলে এমনকি সন্ত্রাসে মদদ দিলে এবং সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা করলেও বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হবে কারাগারে। এক থেকে ছয় বছরের জন্য হতে পারে এই সাজা।
বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ঘৃণামূলক-অপরাধ (হেইট-ক্রাইম) আইনের কয়েক দফা সংশোধনী পাস করে নতুন এই আইন করেছে।
গাজায় ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি-বিদ্বেষী হামলা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকার বলছে, হেইট-ক্রাইমের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় সংশোধিত এই নতুন আইন এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর আইন।

এর আওতায় দেশটিতে এখন থেকে ঘৃণা-প্রতীক প্রদর্শন করলে কিংবা জনসম্মুখে নাৎসি স্যালুট দিলে অন্তত এক বছরের কারাদণ্ডের সাজা ভোগ করতে হবে। আর সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করলে নূন্যতম তিন বছরের জেল এবং সন্ত্রাসী হামলা চালালে কিংবা পরিকল্পনা করলে ৬ বছরের জেল হবে।
অস্ট্রেলিয়া এর আগে গতবছর জানুয়ারিতে আইন করে নাৎসি স্যালুট ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতীকের প্রদর্শন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল।এই প্রতীকগুলো বিক্রি ও এগুলো নিয়ে বাণিজ্যিও নিষিদ্ধ করা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে সিডনি কর্তৃপক্ষ একটি ক্যারাভান থেকে বিস্ফোরক ও একটি ইহুদিবিদ্বেষী নোট উদ্ধার করে।
সিডনিতে একটি ইহুদি স্কুল ও সিনাগগের কাছে একটি চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এক সপ্তাহ পর এর একটি দেয়ালে ইহুদিবিদ্বেষী গ্রাফিতি দেখা যায়।
গত ডিসেম্বরে মেলবোর্নের একটি সিনাগগে উপাসনাকারীরা ভেতরে থাকা অবস্থাতেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পারলামেন্ট যে নতুন আইন করেছে তার বিরোধিতা করছে লেবার পার্টি। দলটি বলছে, তারা বাধ্যতামূলক শাস্তির পক্ষপাতী নয়। তাদের মতে, এ ধরনের শাস্তি অপরাধ কমাতে সহায়ক হয় না। বরং এতে আদালতের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হতে পারে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই বৈষম্যমূলক হতে পারে।