১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হামাস গাজার বেসামরিকদের উপরে ‘আক্রমণের’ পরিকল্পনা করছে: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘সরাসরি ও গুরুতর’ লঙ্ঘন হতে পারে।

হামাস গাজার বেসামরিকদের উপরে ‘আক্রমণের’ পরিকল্পনা করছে: যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধবিরতির পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা একটি বাজারে এসে জড়ো হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Oct 2025, 11:52 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:30 PM

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হামাস গাজার বেসামরিদের ওপর আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছে আর তা ‘আসন্ন’ বলে তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য খবর’ আছে। এমন কিছু হলে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হবে বলে মন্তব্য করেছে তারা।  

শনিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘সরাসরি ও গুরুতর’ লঙ্ঘন হতে পারে এবং ‘মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে দুর্বল করে দিতে পারে’। 

বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কথিত ওই হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি আর তারা কী ধরনের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এ কথা বলছে তাও পরিষ্কার হয়নি। 

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্ব এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই পর্বে গাজায় হামাসের হাতে বন্দি জীবিত সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং মৃত জিম্মিদের দেহাবশেষগুলো ফেরত দেওয়া হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি কারাগারগুলো থেকে ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দি ও যুদ্ধচলাকালে গাজা থেকে আটক ১৭১৮ জন মুক্তি পেয়েছেন। 

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যেই গাজা শান্তি চুক্তির অন্য জামিনদারদেরও বিষয়টি জানিয়েছে এবং হামাস যেন তাদের দিক থেকে যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী বজায় রাখে তার দাবি জানিয়েছে। চুক্তির জামিনদারদের মধ্যে আছেন মিশর, কাতার ও তুরস্ক। 

বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “হামাস যদি এই আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়, তাহলে গাজার লোকজনকে রক্ষা করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং যুদ্ধবিরতির অখণ্ডতা রক্ষা করা হবে।”  

মার্কিন মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির বিষয়ে হামাস এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে বেসামরিকদের হত্যার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। 

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, “হামাস যদি গাজায় লোকজনকে হত্যা করতে থাকে, যা চুক্তিতে নেই, তাহলে সেখানে গিয়ে তাদের হত্যা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।” 

তবে পরে তিনি পরিষ্কার করে জানান যে গাজায় মার্কিন সেনা পাঠাবেন না তিনি।

গত সপ্তাহে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, গাজায় হামাসের যোদ্ধারা কিছু লোককে ধরে এনে গুলি করে মারছে। বিবিসি জানিয়েছে তারা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেছে।  

ওই ভিডিওতে মুখোশ পরা সশস্ত্র বন্দুকধারী লাইন ধরে বসিয়ে রাখা আটজন পুরুষকে গুলি করে মারতে দেখা যায়। যাদের মারা হয় তাদের হাতগুলো পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল। 

বিবিসি বলছে, তারা মুখোশধারী ওই বন্দুকধারীদের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি, তবে তাদের কয়েকজনের মাথায় হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সবুজ হেডব্যান্ড ছিল বলে দেখা গেছে।