Published : 04 Aug 2022, 01:12 PM
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের একদিন পরই দ্বীপটিকে ঘিরে ছয়টি এলাকায় নজিরবিহীন ‘লাইভ-ফায়ার’ সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন।
চীনের স্থানীয় সময় ১২টায় শুরু হওয়া মহড়াটি তাইওয়ানের আশপাশের সাগরে এ পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক তৎপরতা।
সূচী অনুযায়ী মহড়াটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, মহড়া শুরু হয়েছে এবং শেষ হবে রোববার দুপুর ১২টায় (স্থানীয় সময়) ।
মহড়া চলাকালে তাইওয়ানের আশপাশের জল ও আকাশসীমায় তাজা গুলিগোলা ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই মহড়া জাতিসংঘের নিয়মের লঙ্ঘন, তাইওয়ানের ভূখণ্ডগত এলাকায় আক্রমণ এবং আকাশ ও সাগরে অভাব চলাচলের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগেসিভ পার্টি (ডিপিপি) বলেছে, চীন ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক জলপথ ও আকাশপথে মহড়াটি পরিচালনা করছে এবং এটি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন, অনুচিত আচরণ’।
তাইওয়ানের মন্ত্রিসভার মুখপাত্র মহড়াটির তীব্র নিন্দা করেছেন আর তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রেসিডেন্ট দপ্তরের ওয়েবসাইটে হ্যাকররা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বেশ কয়েকটি এলাকায় মহড়াটি তাইওয়ান দ্বীপের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীন ওই এলাকার স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করতে চাইছে বলে তাইওয়ান অভিযোগ করেছে।
পেলোসি তাইওয়ানে অল্প সময় থাকলেও তার এই সফর বিতর্কিত ছিল। তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে বিবেচনা করে চীন।
পেলোসির সফরের প্রধান জবাব হিসেবে এই সামরিক মহড়া চালাচ্ছে চীন; পাশাপাশি তারা বেইজিংয়ে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ে ডেকে পাঠায় এবং তাইওয়ানের বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবিকারী চীন বৃহস্পতিবার বলেছে, স্বশাসিত দ্বীপটির সঙ্গে তাদের পার্থক্য একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর বলেছে, “তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী, বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের শাস্তি যোক্তিক ও আইনসম্মত।”
তবে চীনের নজিরবিহীন এ সামরিক মহড়া যে কোনও সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে, এমন ঝুঁকি প্রবল বলে সতর্ক করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
চীন এবার তাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়াতে কোথায় কোথায় মহড়া চলবে তা উল্লেখ করে একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে, যা খুবই অস্বাভাবিক। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চীন সরকার দেশি এবং বিদেশি উভয় দর্শককে এর মাধ্যমে তাদের মহড়ার গুরুত্ব বোঝাতে চাইছে।
It seems that the main response from mainland #China to the arrival of Nancy Pelosi in #Taiwan could be a series of air and sea live fire military exercises over several days all round the island. See map below… pic.twitter.com/PZVo8rokGX
— Stephen McDonell (@StephenMcDonell) August 2, 2022
তাইওয়ান বলছে, চীন তাদেরকে ভূমি, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরুদ্ধ করে ফেলতে চাইছে।
যদি চীন তাইওয়ানের দাবি করা ১২ নটিক্যাল মাইল এলাকায় যুদ্ধজাহাজ কিংবা যুদ্ধবিমান পাঠায় তাহলে তা তাইওয়ানের মধ্যে ঢুকে আগ্রাসন চালানোর সামিল হবে।
আরও পড়ুন-
পেলোসির সফরের পর চীনের নতুন নিষেধাজ্ঞার কবলে তাইওয়ান