নেটো সদরদপ্তরে এক বৈঠকে হেগসেথ ইউক্রেইন যুদ্ধের বিষয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসনের পরিষ্কার ও চাঁছাছোলা মনোভাব তুলে ধরেন।
Published : 13 Feb 2025, 04:47 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইউক্রেইনের ২০১৪ সালের আগের সীমানায় ফেরা একটি অবাস্তব বিষয় এবং যুদ্ধের একটি সমাধান হিসেবে কিইভের জন্য নেটোর সদস্যপদের প্রয়োজন দেখছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
বুধবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে নেটো সদরদপ্তরে এক বৈঠকে হেগসেথ প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেইন যুদ্ধের বিষয়ে নতুন মার্কিন প্রশাসনের পরিষ্কার ও চাঁছাছোলা মনোভাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপস্থিত ৪০-এরও বেশি মিত্র এবং ইউক্রেইনের কর্মকর্তাদের সামনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা আপনাদের মতোই সার্বভৌম ও সমৃদ্ধ ইউক্রেইন দেখতে চাই। কিন্তু আমাদের এটি স্বীকৃতি দিয়ে শুরু করতে হবে যে ইউক্রেইনের ২০১৪ সালের আগের সীমান্তে ফিরে যাওয়া একটি অবাস্তব বিষয়। এই অলীক লক্ষ্যের পেছনে ছুটলে শুধু যুদ্ধ দীর্ঘায়িতই হবে আর তাতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
হেগসেথের এসব বক্তব্যে ইউক্রেইন নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে ওয়াশিংটনের পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের নীতির আমূল পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। বাইডেন প্রশাসন ও ইউক্রেইনের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র ঘোষণা করেছিল, যতদিন প্রয়োজন ততদিন তারা কিইভকে সমর্থন দিয়ে যাবে; তারা দেশটির ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জোরালোভাবে জানিয়েছিল।
তার বক্তব্যে এ ধারণাও পাওয়া যাচ্ছে যে কিইভকে তার যুদ্ধকালীন প্রধান কিছু লক্ষ্য ছাড়তে হতে পারে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ভূখণ্ডগুলো পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্যপদের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ট্রাম্পের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানের আলোচনা
বৈঠকে হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের নেটো মিত্রদের বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য তাদের বৃহত্তর দায়িত্ব গ্রহণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যু ও চীন থেকে আসা হুমকির কারণে ইউরোপের নিরাপত্তার দিকে ওয়াশিংটন নজর দিতে পারছে না।
যদিও যুদ্ধের অধিকাংশ সময় ইউক্রেইন তাদের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ার সব সেনাকে প্রত্যাহারকে তাদের অন্যতম লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে তারা স্বীকার করে নিচ্ছে যে, বল প্রয়োগ করে তাদের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব এবং এক্ষেত্রে কূটনৈতিক পদক্ষেপই বেশি বাস্তবসম্মত হবে।
রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেইনের কৃষ্ণ সাগরীয় উপদ্বীপ ক্রাইমিয়া দখল করে এক গণভোটের মাধ্যমে তা নিজের ভূখণ্ডের অংশ করে নেয়। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেইন যুদ্ধে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে রুশ বাহিনী।