Published : 14 Nov 2025, 01:02 PM
কথিত ‘মাদক-সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে অপারেশন ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ বা ‘দক্ষিণের বর্শা’ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সৈন্য সমাবেশের মধ্যে বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
“আজ আমি অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ারের ঘোষণা দিচ্ছি। নেতৃত্বে থাকবে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন স্পিয়ার ও সাউথকম, এই অভিযান আমাদের জন্মভূমিকে সুরক্ষিত করবে, আমাদের গোলার্ধ থেকে মাদক-সন্ত্রাসীদের নির্মূল করবে, জন্মভূমিকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করবে, যা আমাদের লোকজনকে মারছে।
“পশ্চিম গোলার্ধ হচ্ছে আমেরিকার এলাকা, আমরা একে সুরক্ষিত করবোই,” পোস্টে হেগসেথ এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড বা সাউথকম যে এলাকার দায়িত্বে তার মধ্যে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৩১টি দেশ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সাউথকম বলেছে, ‘জন্মভূমিকে সুরক্ষিত রাখা ও বেআইনি মাদক পাচারে বিঘ্ন ঘটাতে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যে অগ্রাধিকার তার সমর্থনে ক্যারিবীয় অঞ্চলে থাকা আক্রমণাত্মক উভচর নৌযানে কামান থেকে গোলা নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ চালিয়েছে মেরিন সেনারা।
দিনকয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি নৌযানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে এমন খবর সামনে আসার পর হেগসেথের বৃহস্পতিবারের এ ঘোষণা এল।
সর্বশেষটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাসে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে এমন ২০টি হামলা চালাল, বলছে সিএনএন।
এসব হামলায় ৮০ জনের মতো নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
ওয়াশিংটন বলছে, তারা মাদক পাচারকারীদের নিশানা বানিয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে তাদের যুক্তির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণই দেয়নি তারা।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আমেরিকায় নিজেদের প্রভাব সুদৃঢ় করতেই ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন নৌযানে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলাগুলো ‘মাদকবাহী নৌকায়’ হচ্ছে বলে তারা দাবি করলেও আদতে মাছ ধরার নৌকাই হামলার শিকার হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ।
যুক্তরাষ্ট্রের জি-৭ মিত্ররাও এ ধরনের হামলার সমালোচনা করেছে। এর জবাবে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন কীভাবে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা নেবে ইউরোপীয়রা তা ঠিক করে দিতে পারে না।
আল জাজিরা লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে অপারেশন ‘সাউদার্ন স্পিয়ারের’ ঘোষণা দিল যখন তাদের সবচেয়ে অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে আর কয়েকদিনের মধ্যেই ভেনেজুয়েলার উপকূলে দেখা যাবে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে।
এই বিমানবাহী রণতরী যুক্ত হবে এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও কয়েক হাজার সেনার সঙ্গে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের লক্ষ্যে এই সৈন্য সমাবেশের কথা বলা হলেও ওয়াশিংটন আদতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতে ছক কষছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বুধবার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা অজুহাতে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলা চালানো এবং তার দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন।
“যেহেতু তারা বলতে পারছে না যে আমাদের গোপন জৈব বা রাসায়নিক অস্ত্র আছে, সেজন্য তারা কিম্ভূতকিমাকার এক বয়ান তৈরি করেছে,” বলেছেন তিনি।