Published : 13 Apr 2026, 09:34 PM
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় একটি সিমেন্ট কারখানা চালু রাখতে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অর্থায়ন এবং ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে হোলসিমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘লাফার্জ’-কে দোষী সাব্যস্ত করেছে প্যারিসের একটি আদালত।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) আদালত এই রায় দেয়। লাফার্জের আটজন সাবেক কর্মকর্তা ও নির্বাহীও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
এর মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাহী ব্রুনো লাফোঁকে ৬ বছরের কারাদণ্ড ও সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান হেরোকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
এছাড়াও লাফার্জ-কে ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার (১.১২৫ মিলিয়ন ইউরো) জরিমানা করা হয়েছে, যা একটি কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চ দণ্ড। কৌঁসুলিরা এই দণ্ডের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
বিচারক আদালতকে জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাফার্জ মোট ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার) ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টকে প্রদান করেছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই দুটি সংগঠনকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রধান বিচারক ইসাবেল প্রিভোস্ট-ডেসপ্রে বলেন, লাফার্জের দেওয়া এই অর্থ সিরিয়া এবং এর বাইরে প্রাণঘাতী হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।
তিনি আরও বলেন, “আদালতের কাছে এটি স্পষ্ট যে, একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে অর্থায়নের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক কারণে সিরিয়ায় লাফার্জের কারখানাটি চালু রাখা।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমেই লাফার্জ তাদের কারখানার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। এই অর্থায়ন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে একটি প্রকৃত বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের রূপ নিয়েছিল।”
রায়ের বিষয়ে লাফার্জ বা হোলসিমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফ্রান্সে এই প্রথম কোনো কোম্পানি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছে।
উত্তর সিরিয়ার জালাবিয়া সিমেন্ট কারখানাটি ২০০৮ সালে ৬৮ কোটি ডলারে কিনেছিল লাফার্জ। ২০১০ সালে সেখানে উৎপাদন শুরু হয়, যার কয়েক মাস পরেই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
কৌসুলিরা আদালতকে জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এসব অর্থায়ন করা হয়েছিল।
তদন্তে দেখা যায়, কারখানার কর্মীরা পাশের মানবিজ শহরে থাকতেন এবং কারখানায় যাওয়ার জন্য তাদের ইউফ্রেটিস নদী পার হতে হত।
কর্মীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৮ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
তাছাড়া আইএস-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা খনিগুলো থেকে কাঁচামাল কেনার জন্য আরও ১৬ লাখ ইউরো ব্যয় করেছিল কোম্পানিটি।
২০১৫ সালে লাফার্জ সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক হোলসিম গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক পৃথক মামলায় লাফার্জ স্বীকার করেছিল যে, তারা সিরিয়ায় তাদের কর্মী ও গ্রাহকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইএস ও নুসরা ফ্রন্টকে ৬০ লাখ ডলার দিয়েছিল।
সেই মামলায় কোম্পানিটিকে ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।