দিন ফেরার আগে সামনে আরও কঠিন সময়: ইনটেল প্রধান

আগামী বছর সার্ভার প্রসেসর বাজারে শেয়ার হারাতে থাকবে ইনটেল। তবে, ২০২৫ সাল থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন ইনটেল সিইও।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 08:43 AM
Updated : 11 Sept 2022, 08:43 AM

প্রান্তিকের হিসাবে ইনটেলের অবস্থা তেমন ভালো না- এটা সিইও প্যাট গেলসিঙ্গারও জানেন। তিনি আশার কথা শুনিয়েছেন, পরিস্থিতি ভালো হবে। তবে, সতর্কবার্তা হচ্ছে, পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে সম্ভবত শীর্ষ এই চিপমেকারকে আরও খারাপ অবস্থা পেরোতে হবে।

‘এভারকোর আইএসআই টিএমটি’ সম্মেলনে গেলসিংগার ব্যাখ্যা করেন, তার হিসাব অনুযায়ী আগামী বছর সার্ভার প্রসেসর বাজারে শেয়ার হারাতে থাকবে ইনটেল। তবে, ২০২৫ সাল থেকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এই বছরের শুরুতে ‘অপটেইন মেমোরি’র ব্যবসা বিক্রির পর নিজেদের ফুলে ফেপে ওঠা পণ্যের প্রবাহ ধরে রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে ইনটেল। --ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ঘোলা জলে ইনটেল

সেমিকন্ডাক্টর খাতের জায়ান্ট হলেও সম্প্রতি নিজস্ব পারফর্মেন্সে আশানুরূপ ফলাফল দেখাতে পারেনি ইনটেল।

২০২১ সালের শুরুতে গেলসিংগার ইনটেলে ফেরার পর সবার প্রত্যাশা বাড়লেও গত দুই মাসে বেশ কয়েকবার অবস্থার অবনতি হয় ও কোম্পানির বিভিন্ন সমস্যা আরও পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকরেডার।

উদাহরণ হিসেবে, ‘স্যাফায়ার র‍্যাপিডস’ কোডনামে পরিচিত পরবর্তী প্রজন্মের সার্ভার প্রসেসরের উন্মোচন বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে কোম্পানিটি।

২০২১ সালে ইনটেলের নতুন ‘জিওন’ চিপ উন্মোচনের কথা থাকলেও এটি প্রথমে পেছায় ২০২২ সালে শুরু পর্যন্ত। পরবর্তীতে বছরের মাঝামাঝি ও শেষে আসার কথা থাকলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এই চিপের জন্য ব্যবহারকারীদের সম্ভবত অপেক্ষা করতে হবে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত।

সম্প্রতি জিপিইউ ব্যবসায় প্রবেশ করা ইনটেলের শুরুটা বেশ নড়বড়ে, যেখানে বৈশ্বিক চিপ স্বল্পতা ও অন্যান্য কোভিড-সম্পর্কিত সমস্যার কারণে তাদের প্রথম ‘আর্ক কার্ডসের’ উন্মোচন বেশ কয়েকবার পিছিয়েছে।

পারফর্মেন্স বিবেচনায় বর্তমান প্রজন্মের এনভিডিয়া ও এএমডি মডেলের মতো গতি আনতে কাঠ খড় পোড়াচ্ছে ইনটেলের প্রথম প্রজন্মের আর্ক জিপিইউ।

অন্যদিকে খবর রটেছিল, পারফর্মেন্সে বাধা দেয় এমন হার্ডওয়্যার ত্রুটি সমাধান করতে না পারায় ‘আর্ক অ্যালকেমিস্ট’ ও ‘ব্যাটেলমেজ’ লাইন-আপ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে ইনটেল। তবে এই সব দাবি নাকচ করে দিয়েছে কোম্পানিটি।

জুলাই মাসে একটি ‘হতাশাজনক’ প্রান্তিক আয়ের হিসেব প্রকাশ করেছে ইনটেল, যেখানে আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় কমেছে ২২ শতাংশ। এই পারফর্মেন্স এতটাই হতাশাজনক ছিল যে টুইটারে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন গেলসিংগার।

“আমাদের কোম্পানি ও শেয়ারহোল্ডারদের নির্ধারন করা মানদণ্ডের নীচে ছিল এই প্রান্তিকের ফলাফল।” --লেখেন তিনি।

“আমাদের অবশ্যই ভালো করতে হবে ও আমরা সেটি করব।”

ইনটেলের ভরসার জায়গা হচ্ছে কৌশলগতভাবে ডেটা সেন্টারের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এই হতাশাজনক পরিস্থিতি থেকে আবার আগের জায়গায় ফিরতে কোম্পানিটিকে অনেক কাজ করতে হবে – উঠে এসেছে টেকরেডারের প্রতিবেদনে।

গেলসিংগার পরামর্শ দিয়েছেন, ইনটেলের পরবর্তী পণ্যগুলো প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি হলেও ২০২৪ সাল নাগাদ ‘সিয়েরা ফরেস্ট’ প্রসেসর না এলে নিজস্ব নেতৃস্থানীয় অবস্থান ফিরে পাবে না কোম্পানিটি।

টেকরেডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তি খরচ এবং কোর সংখ্যার দিক থেকে ইনটেলের নতুন লাইনআপ বাজারে এগিয়ে থাকা ‘আর্ম ভিত্তিক চিপ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর ‘এক্স৮৬’ প্রসেসরের সঙ্গে ইনটেল চিপের দূরত্ব কমিয়ে আনবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক