স্যামসাং ফোনের ব্যাটারিতে শিল্ড আইকনের মানে কী?
ফোনের মডেলভেদে এসব ফিচার বাই ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন করা থাকতে পারে। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ ফিচারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই।
স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের ব্যাটারি সিম্বলের পাশে থাকা শিল্ড আইকনটি দেখে সিকিউরিটি ফিচার মনে হলেও এটা আসলে ব্যাটারির সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যাটারির দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার জন্য নানা ফিচার থাকে, যার মধ্যে চার্জিং সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা বা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সীমিত রাখার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
ফোনের মডেলভেদে এসব ফিচার বাই ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন করা থাকতে পারে। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনের ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ ফিচারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই।
ফিচারটি কীভাবে কাজ করে তার বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক–
গ্যালাক্সি ফোনে যেভাবে কাজ করে ব্যাটারি প্রোটেকশন
গ্যালাক্সি ফোনের ব্যাটারি ইন্ডিকেটরে যখনই শিল্ড আইকনটি দেখা যাবে তখন এর মানে হচ্ছে ব্যাটারি প্রোটেকশন চালু রয়েছে।
ফিচারটি সক্রিয় থাকলে ফোনটি ১০০ শতাংশ ফুল চার্জ না হয়ে চার্জিং সীমিত রাখে। এর কারণ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির বয়স বৃদ্ধি বা ক্ষয় হওয়ার প্রক্রিয়া।
আধুনিক বিভিন্ন ব্যাটারি যখন দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ চার্জ লেভেলে থাকে তখন সেগুলোর ওপর বেশি চাপ পড়ে। ফলে ব্যাটারির কার্যসক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়।
এ কারণেই ব্যাটারি ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পরও ফোনটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চার্জে লাগিয়ে রাখা দীর্ঘমেয়াদে ভালো নয়।
১০০ শতাংশ চার্জ করলেই যে ফোনের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বিষয়টি এমনও নয়। কেউ যদি সারাদিন ঘরের বাইরে থাকেন ও চার্জারের নাগালের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তবে অবশ্যই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে ফোনটি ফুল চার্জ করে নিতে চাইবেন।
ফোন নির্মাতারা ব্যাটারিগুলোকে টেকসই করেই তৈরি করেন ও প্রথম কয়েক মাস ব্যবহারের পর ব্যাটারির এই ক্ষয় সহজে বোঝাও যায় না। তবে একই ফোন দুই বা তিন বছর ব্যবহারের পর এসব প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্যামসাংয়ের মতো বিভিন্ন কোম্পানি ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়াতে এই ধরনের ফিচার নিয়ে এসেছে। ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ ফিচারে বিভিন্ন মোড বা অপশন থাকে। এর মধ্যে ‘বেসিক’ মোডটি কম আগ্রাসী ও বেশিরভাগ মানুষের জন্যই এটা ব্যবহার করা উচিত।
এ মোডে ব্যাটারি ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর পর কেউ ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখলেও চার্জিং বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাটারির চার্জ কমে ৯৫ শতাংশে এলে তা আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ নিতে শুরু করে।
অন্যদিকে, ‘ম্যাক্সিমাম’ মোডে ব্যবহারকারী নিজেই ঠিক করে দিতে পারেন ফোনটি কত শতাংশে গিয়ে চার্জ নেওয়া বন্ধ করবে। এক্ষেত্রে ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন অপশন থাকে।
লিমিট যত কম রাখবেন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারি তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে। তবে এর মানে, এক চার্জে ব্যবহারকারী ফোনের ব্যাটারি লাইফ কিছুটা কম পাবেন।
গ্যালাক্সি ফোনে চার্জ লিমিট যেভাবে সেট করবেন
গ্যালাক্সি ফোনে ব্যাটারি প্রোটেকশন অপশন পরিবর্তন করতে প্রথমে ফোনের ‘সেটিংস’ অ্যাপে গিয়ে ‘ব্যাটারি’ মেনুটি খুঁজে বের করুন। এরপর ‘ব্যাটারি প্রোটেকশন’ অপশনে ট্যাপ করে পছন্দমতো সুইচটি অন বা অফ করে নিন।
এটা চালুর পর ‘বেসিক’ বা ‘ম্যাক্সিমাম’ এ দুটির যে কোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। কেউ যদি ‘ম্যাক্সিমাম’ বাছাই করলে ‘চার্জিং ক্যাপ’ বা সীমা নির্ধারণ করার জন্য একটি স্লাইডার দেখতে পাবেন।
এ ছাড়া ‘স্লিপ টাইম প্রোটেকশন’ নামের আরেকটি তৃতীয় অপশন রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ব্যবহারের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে ও সারারাত ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখলে ৮০ শতাংশে গিয়ে চার্জিং থামিয়ে রাখে।
এরপর ঘুম থেকে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার চার্জ হওয়া শুরু করে, যাতে ১০০ শতাংশ ফুল চার্জ হয়ে যায়।
এটা কি আসলেই কার্যকর?
ব্যাটারি প্রোটেকশন ব্যবহার করা উচিত কি না তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ফোন ব্যবহারের অভ্যাসের ওপর।
কেউ সারারাত ফোন চার্জে লাগিয়ে বা সারাদিন ডেস্কের চার্জারে প্লাগ ইন করে রাখলে ফিচারটি চালু রাখা তার জন্য বেশ সুফল বয়ে আনবে।
কাজের সময় কেউ হয়ত বুঝতেই পারবেন না যে ফিচারটি ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করছে, আর ফোন খোলার আগেই এটা আপনার প্রয়োজন অনুসারে চার্জ করে নেবে।
দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, যা দীর্ঘদিন একই ডিভাইস ব্যবহার করতে চাইলে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, কারো যদি নির্দিষ্ট কোনো চার্জিং রুটিন না থাকে তবে ব্যাটারি প্রোটেকশন বন্ধ রাখাই ভালো।
লম্বা ভ্রমণ বা ব্যাটারি বেশি খরচ হয় এমন কাজের জন্য প্রায়ই ফোন রিচার্জের প্রয়োজন পড়ে। ফলে সেসব ক্ষেত্রে ব্যাটারি দ্রুত ১০০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়াটাই সুবিধাজনক।
প্রয়োজন হলে অপশনটি পরিবর্তন করতে পারবেন। ফলে সারাক্ষণ একই ব্যাটারি মোডে আটকে থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিছু অ্যান্ড্রয়েড সেটিংস পরিবর্তন করেও ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানো সম্ভব।
