১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফাইবারের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে এফসিসি, অভিযোগ স্পেসএক্সের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করা স্পেসএক্সের ‘রুরাল ডিজিটাল অপরচুনিটি ফান্ড’ থেকে পাওয়ার কথা ছিল ৮৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

ফাইবারের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে এফসিসি, অভিযোগ স্পেসএক্সের

ছবি: স্পেসএক্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Sep 2022, 07:08 PM

Updated : 11 Sep 2022, 07:08 PM

টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সংযোগে মার্কিন নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ফেডারেল কমিউকেশনস কমিশন (এফসিসি) পক্ষপাত করছে বলে অভিযোগ করেছে স্পেসএক্স। ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত এই মহাকাশ অভিযান ও গবেষণা কোম্পানির স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে।

গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড সেবার ক্ষেত্রে এফসিসি’র একটি সিদ্ধান্ত শুক্রবার চ্যালেঞ্জ করার সময় এই অভিযোগ তোলে কোম্পানিটি।

২০২০ সালে কমিশনের গঠন করা ‘রুরাল ডিজিটাল অপরচুনিটি ফান্ড’ পেতে আবেদন করেছিল স্পেসএক্স ও এলটিডি ব্রডব্যান্ড, যা এই বছরের অগাস্ট মাসে নাকচ করে দেয় এফসিসি।

ওই সিদ্ধান্তবে চ্যালেঞ্জ করা আপিলে এই পদক্ষেপকে ‘ত্রুটিযুক্ত’ ও ‘চরম অন্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে মাস্ক মালিকানাধীন কোম্পানিটি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করা স্পেসএক্সের এই প্রকল্প থেকে পাওয়ার কথা ছিল ৮৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

“এই সিদ্ধান্তে ফাইবারের প্রতি পক্ষপাতিত্বের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে” --শুক্রবার জমা দেওয়া আপিলে লেখেন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট নীতিমালা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ডেভিড গোল্ডম্যান।

“অথচ সেবা না পাওয়া মার্কিন নাগরিকদের ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্তিতে এটি একটি যোগ্যতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারত।”

এই প্রসঙ্গে রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এফসিসি।

পৃথিবীকে আবর্তন করা স্পেসএক্সের তিন হাজারের বেশি স্যাটেলাইটনির্ভর স্টারলিংক সেবায় এরইমধ্যে পাঁচ লাখের বেশি ব্যবহারকারী আছে বিশ্বব্যপী যার মধ্যে সাড়ে চার লাখই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। প্রতিটি ‘ইউজার টার্মিনালের’ জন্য অন্তত পাঁচশ ৯৯ ডলার এবং সেবা চালাতে মাসিক একশ ১০ ডলার গুনতে হয় গ্রাহককে।

অগাস্ট মাসে এই তহবিল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এফসিসি’র চেয়ারপার্সন জেসিকা রোসেনওয়োরসেল বলেন, স্টারলিংক প্রযুক্তি নিয়ে ‘সত্যিকারের প্রত্যাশা’ থাকলেও প্রকল্পের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি এটি।

গত কয়েক বছরে সেবার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি এর দামও গ্রাহকের জন্য তুলনামূলক বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই প্রকল্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি রাজ্যের ছয় লাখ ৪২ হাজার নয়শ ২৫টি জায়গায় প্রতি সেকেন্ডে ১০০/২০ মেগাবাইট গতির ইন্টারনেট সেবা পৌছে দিতে চেয়েছিল স্পেসএক্স।

আপিলে কোম্পানিটি জানিয়েছে, স্টারলিংকের পারফর্মেন্স ‘ভুলভাবে যাচাই’ করেছে এফসিসি।

অগাস্ট মাসে দেওয়া এক বিবৃতিতে এফসিসি’র এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন সংস্থাটিরই কমিশনার ব্রেন্ডান কার। এ ছাড়া, পুরো কমিশনের ভোট প্রদান ছাড়া এই আবেদন নাকচ করায় নিজ সংস্থার কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

“এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা পুরো দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পরিবারগুলোকে বলছে, তারা ডিজিটাল বিভাজনের ভুল দিকে অপেক্ষায় বসে আছেন যদিও তাদের জীবন উন্নত করার প্রযুক্তি আমাদের কাছে এখনই আছে।” – বলেছেন কার।