এআই উন্মাদনার পরও মার্কিন স্টার্টআপে তহবিল কমেছে ৩০ শতাংশ

‘ইউনিকর্ন কোম্পানি’ বা যেসব কোম্পানির মূল্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি, এমন ৭৩২টি কোম্পানি নগদ অর্থ ব্যবহার করে ফেলার কারণে এই বছর আবারও পুঁজি সংগ্রহের চেষ্টা করবে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Jan 2024, 10:04 AM
Updated : 13 Jan 2024, 10:04 AM

মার্কিন বিনিয়োগকারীরা ২০২৩ সালে বিভিন্ন স্টার্টআপে প্রায় ১৭ হাজার ৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা ২০২২ সালে রেকর্ড করা ২৪ হাজার ২২০ কোটি ডলারের থেকে ৩০ শতাংশ কম।

এর কারণ, বাড়তে থাকা সুদের হারের মধ্যে নতুন করে মূল্য নির্ধারণের সঙ্গে লড়াই করছে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডিং মার্কেট বা ব্যক্তিমালিকানাধীন অর্থায়নের বাজার। বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষক কোম্পানি ‘পিচবুক’।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য উঠে এসেছে এমন এক বছর থেকে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বড় বড় চুক্তি বিনিয়োগকারীদের কল্পনাকে ছুঁয়ে গিয়েছে। তবে, ২০২১ সালে ৩৪ হাজার ৩০০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করে শীর্ষে থাকা মার্কিন ভেঞ্চার ফান্ডিং কীভাবে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে সেটিই প্রকাশ পেয়েছে এসব তথ্যে।

লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিভিন্ন এআই ল্যাব একটি ব্যায়বহুল প্রচেষ্টা, যেখানে প্রয়োজন হয় প্রচুর ‘কম্পিউটেশনাল’ বা গণনামূলক শক্তির। এরপরেও একটি সাবধানী বিনিয়োগের বছরে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এআই খাত। পিচবুকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের মোট চুক্তি মূল্যের ১০ শতাংশই এআই প্রযুক্তির শীর্ষ দুই কোম্পানি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে হওয়া বড় সব বিনিয়োগ।

তবে, চতুর্থ প্রান্তিকে ৩৯৩৪টি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় লেনদেনে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, যা বাজারে একটি সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার আশা জাগিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

বিভিন্ন স্টার্টআপ আগের তহবিলের তুলনায় কম মূল্যের তহবিল সংগ্রহের ঘটনা ২০২২ সালে ছিল ৮ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। এ থেকে অনুমান করা সম্ভব, কাজের শেষ পর্যায়ে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যায়ন বড় পরিসরে পুনর্নির্ধারিত হয়েছে।

‘ইউনিকর্ন কোম্পানি’ বা যেসব কোম্পানির মূল্য ১০০ কোটি ডলারের বেশি, এমন ৭৩২টি কোম্পানি নগদ অর্থ ব্যবহার করে ফেলার কারণে এই বছর আবারও পুঁজি সংগ্রহের চেষ্টা করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স৷

তবে, তারা মূলধন পাবে কী না তা এখনও অস্পষ্ট। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো ২৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি বেকার বা অব্যবহৃত পুঁজি নিয়ে বসে আছে। পাশাপাশি, তাদের নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের গতিও কমে গেছে।

২০২৩ সালে ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো, যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমেছে এবং ছয় বছরের সর্বনিম্ন বলে উঠে এসেছে পিচবুকের তথ্যে। এর ফলে নগদ অর্থ ভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর মূলধনের চাহিদা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে লিখেছে রয়টার্স।

“আমি বলব ৫০ শতাংশ ভিসি ফান্ড ম্যানেজারদের পরবর্তী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পুনরায় পুঁজি সংগ্রহ করতে হবে।” – বলেছেন মার্কিন কোম্পানি টপ টিয়ার ক্যাপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডেভিড ইয়র্ক।

“কোম্পানিগুলো এখনও তাদের সেরা পারফরম্যান্স ম্যানেজারদের দলে ভেড়ালেও তেমন খরচ করছে না। এখন, সেরকম খরচ করার মতো অর্থ নেই।"