Published : 17 Sep 2026, 07:55 PM
রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলোর উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দিতে যে বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস তার জবাবে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারত।
বুধবার ‘লিন্ডসে ও.গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলটি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে।
এবার শুধু প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের অপেক্ষা। এই বিল আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পেয়ে যাবেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় ভারতের নাম রয়েছে।
ভারত ও চীনের মতো রুশ তেলের বড় ক্রেতারাও এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও নিজের অবস্থান থেকে এক চুল না সরার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রদপ্তর।
নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।
বর্তমানে সমুদ্রপথে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারত। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো ইতিমধ্যেই কেনাকাটায় বৈচিত্র্য আনতে শুরু করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, কানাডা, ভেনেজুয়েলা এবং আফ্রিকা থেকে বিকল্প তেল সরবরাহ বাড়াচ্ছে।
তবে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ‘স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট ২০২৬’ এবং এর পরবর্তী ঘটনাক্রমের ওপর কড়া নজর রাখছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আগেও একাধিকবার যেমনটি বলা হয়েছে, ভারত তার ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারত বিভিন্ন উৎস থেকে বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহের নীতি অনুসরণ করে।
দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের অন্যতম অগ্রাধিকার।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর কী ধরনের সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে, তা ভারতীয় পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের আইনি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে।
মার্কিন বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সইয়ের অপেক্ষায়। অর্থাৎ হাউজে বিল পাস হওয়া মানেই ভারতের উপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হচ্ছে না।
আইন কার্যকর হলে কোন দেশ বা পণ্যের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রশাসনের হাতে থাকবে।
কী রয়েছে এই বিলে?
গেল মাসে মার্কিন সেনেটে অনুমোদনের পর বুধবার দেশটির হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হয় ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’।
ইউক্রেইনে সামরিক অভিযান পরিচালনায় রাশিয়ার আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত করাই এই কঠোর আইনের লক্ষ্য। বিলটিতে রুশ সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, জ্বালানি খাত এবং মস্কোর সামরিক অভিযানে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধের তালিকায় রাখা হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটি’র তথ্য অনুযায়ী, বিলে সরাসরি রুশ পণ্যের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর বিধান দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা যাবে।
প্রতি ১৮০ দিন পরপর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংস্থা (ইউএসটিআর) সমীক্ষা চালিয়ে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
তবে মার্কিন সরকার শুল্কের সুনির্দিষ্ট হার, পণ্যের ধরন এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানির ওপর এর চূড়ান্ত প্রভাব কতটা পড়বে তা বলা এখনই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।