নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে টানা তৃতীয় শিরোপা বাংলাদেশের

এখন পর্যন্ত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় আয়োজন এটি, যেখানে দেখানো হয়েছে সর্বমোট পাঁচ হাজার পাঁচশ ৫৬টি প্রকল্প।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Jan 2024, 10:53 AM
Updated : 24 Jan 2024, 10:53 AM

নাসার ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩’ প্রতিযোগিতায় বেস্ট স্টোরিটেলিং ক্যাটেগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের ‘টিম ভয়েজার্স’।

নাসার এ বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টানা তিনবার ও সব মিলিয়ে চতুর্থবার শিরোপা জেতার কৃতিত্ব অর্জন করল বাংলাদেশ।

প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বের আয়োজক ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)’ এ নিয়ে ১০ বারের মতো আয়োজনটি শেষ করেছে।

স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের এবারের সংস্করণে অংশ নিয়েছে ১৫২টি দেশ। ৩০টি ভিন্ন ক্যাটেগরিতে এ প্রতিযোগিতায় সর্বমোট অংশ নিয়েছিল আট হাজার সাতশ ১৫টি দল। আর বয়স, পটভূমি, আগ্রহ ও দক্ষতার ভিত্তিতে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছিলেন ৫৭ হাজার নয়শ ৯৯ জন।

নাসার স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে প্রতিবছরই একাধিক শ্রেণিতে শীর্ষ বিজয়ী বেছে নেওয়া হয়। এবারের ১০টি ক্যাটেগরির মধ্যে একটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।

এখন পর্যন্ত নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় আয়োজন এটি, যেখানে দেখানো হয়েছে সর্বমোট পাঁচ হাজার পাঁচশ ৫৬টি প্রকল্প।

এর মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ভয়েজার্স-এর প্রজেক্টের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘এভরিথিং স্টার্টস উইথ ওয়াটার’, যা মহাকাশ অনুসন্ধানে বাংলাদেশের উদীয়মান প্রতিভার অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে বলে দাবি বোংলাদেশ পর্বের আয়োজক বেসিসের।

মহাসগর, সাগর, নদীসহ পৃথিবীতে যে পরিমান পানি আছে তার মধ্যে ব্যবহার্য নিরাপদ পানির পরিমাণ কেবল ১০ হাজার ভাগের এক ভাগ।

শিরোপাজয়ী টিম ভয়েজার্স-এর দলনেতা ছিলেন মো. খালিদ সাকিব। আর এ দলের অন্যান্য সদস্য হলেন মো. আব্দুল মালেক, মো. সাখাওয়াত হোসেন, মোসা. ফাহমিদা আক্তার ও মো. আতিক।

তাদের মিশন ছিল পৃথিবীতে সম্পূর্ণ পানি প্রবাহের পথ বোঝানোর জন্য একটি দৃশ্যানির্ভর সরঞ্জাম তৈরি করা, যার লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর প্রাকৃতিক কাঠামোয় পানির প্রবাহ ও এই অমূল্য সম্পদ কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে তা বোঝানো।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২৩’র বাংলাদেশ পর্বের উপদেষ্টা ছিলেন আরিফুল হাসান অপু এবং মাহদী-উজ-জামান।

"ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করা থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া, এই যাত্রা এতো সহজ ছিল না আমাদের জন্য। তবে এখন বিশ্ব দরবারে নিজের দেশের নাম তুলে ধরতে পেরে আমরা প্রত্যেকেই আজ অনেক গর্বিত।” --বলেন টিম ভয়েজার্স-এর দলনেতা খালিদ সাকিব।

উল্লেখ্য, চাঁদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেয়, ‘লুনার ভিআর প্রজেক্ট’ বেস্ট ইউজ অব ডাটা ক্যাটেগরিতে এমন ভার্চুয়াল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে ২০১৮ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম অলীক। ২০২১ সালে ‘বেস্ট মিশন কনসেপ্ট’ ক্যাটেগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) সম্মিলিত দল ‘টিম মহাকাশ’ এবং ২০২২ সালে "টিম ডায়মন্ডস" - "সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক" বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়।