শরীরে ‘সাঁতার কাটা’ রোবট বানালেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই আশা করছেন, নরম ধাতুর তৈরি চৌম্বকীয় রোবট তৈরির, যেটা অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়া ছাড়াই মানবদেহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 June 2023, 11:21 AM
Updated : 21 June 2023, 11:21 AM

আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির স্তন্যপায়ী প্রাণী প্যাঙ্গোলিন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজ্ঞানীরা এমন ক্ষুদ্রাকৃতির রোবট বানিয়েছেন, যা মানবদেহে ‘সাঁতার কাটতে’ পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নরম এই রোবট কোনো জিনিস পৌঁছে দেওয়া, তাপমাত্রা বাড়ানো ও রক্তপাত থামানোর মতো বেশ কয়েক ধরনের কাজ করতে সক্ষম। তারা আরও বলেন, নাগাল পাওয়া কঠিন এমন জায়গায়, যেমন পাকস্থলি ও ক্ষুদ্রান্ত্রে, পরীক্ষা করতে ভবিষ্যতে এটি মানবদেহেও প্রবেশ করানো যেতে পারে।

আপাতত কেবল নমুনা টিস্যুতে এই রোবট পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এর নির্মাতারা বলছেন, এর জন্য আরও বেশি পরীক্ষা প্রয়োজন।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোবটটি নিজেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম করতে পারে। নির্মাতারা বলছেন, এটি নানাভাবেই চিকিৎসায় সহায়ক হবে। এর সম্ভাব্য প্রয়োগের মধ্যে ক্যানসার চিকিৎসা বা রক্তপাত থামানো এবং শরীরে ঔষধ প্রবেশ করানোর মতো কাজের উল্লেখ করেছেন তারা।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই আশা করছেন, নরম ধাতুর তৈরি চৌম্বকীয় রোবট তৈরির, যেটা অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়া ছাড়াই মানবদেহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে।

কাজটি বেশ কিছু বাধার মুখেও পড়েছে। রোবটের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও কার্যকারিতা সীমিত করে ফেলাকে এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’।

এই সমস্যা মোকাবেলার প্রয়াসে গবেষকরা প্যাঙ্গোলিনের দিকে মনযোগ দেন। স্তন্যপায়ী প্রাণীটির গোটা শরীর আঁশ দিয়ে ঢাকা। এর মানে দাঁড়ায়, তারা এর আগে ‘শিকার হওয়ার মতো’ হুমকির মুখে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে, ওই আঁশের কাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন বিজ্ঞানীরা। প্রাণীগুলোর দেহ ‘শক্ত বর্মে মুড়িয়ে থাকার পরও তারা নমনীয়ভাবে ও সমস্যা ছাড়াই চলাফেরা করতে পারে- এই বিষয়টি থেকে অনুপ্রাণিত হন তারা।

প্যাঙ্গোলিনের এমন সক্ষমতার কারণ তাদের শরীরে থাকা কঠোর আঁশগুলো এমনভাবে সাজানো যাতে করে একটি আঁশের প্রান্ত পরবর্তী আঁশের অংশকে ঢেকে রাখে। নতুন রোবটেও এমন সুবিধা আনতে চেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

ক্ষুদ্র আকারের কারণে রোবটগুলোকে ডাকা হচ্ছে ‘মিলিরোবট’ নামে। এদের দৈর্ঘ্য এক সেন্টিমিটার ও প্রস্থ্য দুই সেন্টিমিটার, যেখানে একই ধরনের ‘ওভারল্যাপিং’ কাঠামো ব্যবহৃত হয়েছে। আর নিজের অনুপ্রেরণা প্যাঙ্গোলিনের মতোই এগুলো উত্তাপ তৈরি করতে, আকার বদলাতে ও গড়াগড়ি খেতে পারে।

এই কাজের বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’-এ, গবেষণাপত্রটির নাম, ‘প্যাঙ্গোলিন ইনস্পায়ার্ড আনটেথার্ড ম্যাগনেটিক রোবট ফর অন ডিমান্ড বায়োমেডিকাল হিটিং অ্যাপ্লিকেশন’।