২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার এই রোবট তুলতে পারে আস্ত গরু

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানির অবস্থান চীনে।

চীনের ১৩ ফুট উচ্চতার এই রোবট তুলতে পারে আস্ত গরু

রোবটটি দুই বাহু দিয়ে ছোট গাড়ি বা পূর্ণবয়স্ক গরুর ওজনের সমান ভার বহন করতে পারবে। ছবি: নিওড্রাডাইনামিক্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 06:47 PM

Updated : 28 Oct 2026, 06:47 PM

নতুন প্রযুক্তির হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীনের একটি কোম্পানি, যা ৫০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বেইজিংভিত্তিক কোম্পানি ‘নিওড্রাডাইনামিক্স’ বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত ‘নিও১’ নামের এই ১৩ ফুট বা চার মিটার উচ্চতাসম্পন্ন রোবটটি প্রতিযোগী অন্যান্য হিউম্যানয়েড রোবটের শারীরিক সীমাবদ্ধতা টপকে যেতে পারে।

কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ইয়াং তাও বলেছেন, “রোবটের কাজ কেবল মানুষের আকৃতি নকল করা নয়, বরং মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নজিরবিহীন কাজের সক্ষমতা তৈরি করা।”

১.২ মেট্রিক টন ওজনের এই রোবটটিতে বৈদ্যুতিক মোটরের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে হাইড্রোলিক অ্যাকচুয়েটর, যা এর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর মাধ্যমে রোবটটি দুই বাহু দিয়ে ছোট গাড়ি বা পূর্ণবয়স্ক গরুর ওজনের সমান ভার বহন করতে পারবে।

ইয়াং তাও বলেছেন, “রোবটের মূল শক্তি ও স্থায়িত্বের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এনেছে আমাদের হাইড্রোলিক-ইলেকট্রিক হাইব্রিড বেস প্রযুক্তি। ফলে কায়িক বুদ্ধিমত্তা সরাসরি শিল্পক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হতে পারবে ও শিল্প খাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখবে।”

এ মাসে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬ চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রি ফেয়ার’-এ উন্মোচিত হওয়া ‘নিও১’ রোবটটি ভারী কাজ, খনি বা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো প্রতিকূল পরিবেশের শিল্পসংক্রান্ত কাজ করার উপযোগী করে তৈরি।

Image

১.২ মেট্রিক টন ওজনের এই রোবটটিতে বৈদ্যুতিক মোটরের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে হাইড্রোলিক অ্যাকচুয়েটর। ছবি: নিওড্রাডাইনামিক্স

নিওড্রাডাইনামিক্স দাবি করেছে, রোবটটির আঙুলের অগ্রভাগের সূক্ষ্মতা ০.০১ মিলিমিটার পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়, যা দিয়ে সুচে সুতা পরানোর মতো সুক্ষ কাজও করা সম্ভব।

ওয়েবসাইটে বড় আকারের এই রোবটকে ‘সুপারহিউম্যানয়েড রোবট’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি কোম্পানিটি করেছে, এআইচালিত এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ‘পারিবারিক সেবাতেও’ কাজে লাগানো যেতে পারে।

তবে নিজেদের এসব দাবির বাস্তব প্রয়োগ এখনও দেখায়নি নিওড্রাডাইনামিক্স। মেলায় প্রদর্শিত মডেলটিতে কেবল হাত-পায়ের সীমিত কিছু সঞ্চালন দেখতে পেয়েছেন দর্শনার্থীরা।

এ বছরের মার্চে অনুমোদিত চীনের নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এআইচালিত রোবটকে দেশটির জাতীয় অর্থনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

চীনের ‘ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস’-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে, এই খাতে এরইমধ্যে ২০ লাখেরও বেশি শিল্পভিত্তিক রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে, গেল মাসে প্রকাশিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রোবোটিক্স’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে কারখানায় নতুন যোগ হওয়া মোট রোবটের ৫৯ শতাংশই চীনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ ছাড়া, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট নির্মাতা কোম্পানির অবস্থানও এ দেশটিতে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রোবোটিক্স’-এর সভাপতি জেন হেফনার বলেছেন, “দশ বছর আগে শুরু হওয়া জাতীয় রোবোটিক্স কৌশলের ওপর ভিত্তি করেই চীন তার শিল্প ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সাফল্য পেয়েছে।

“চীনের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এআই গবেষণাকে ভৌত ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এসব রোবট।”