১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গলে সৌরশক্তি চালিত ছোট নভোযান পাঠানো সম্ভব হবে?

গবেষকরা বলছেন, এসব যন্ত্র বাতাসে ভেসে থাকতে পারে ও এতে সেন্সর বসিয়ে জলবায়ু পর্যবেক্ষণ করা যায়। এগুলো মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের কাজেও লাগতে পারে।

মঙ্গলে সৌরশক্তি চালিত ছোট নভোযান পাঠানো সম্ভব হবে?
এ উড়ুক্কু যন্ত্রটি তৈরি হয়েছে দুইটি পাতলা, ছিদ্রওয়ালা স্তর দিয়ে, যেগুলো ছোট ছোট সংযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একসঙ্গে লাগানো রয়েছে। ছবি: গবেষণাপত্র থেকে নেওয়া

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Aug 2025, 04:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দুর্গম বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণ করতে ও ভবিষ্যতে মঙ্গল বা অন্য গ্রহেও যেন পাঠানো যায় সেজন্য সৌরশক্তিচালিত ক্ষুদ্র আকারের বিভিন্ন নভোযান পাঠাতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা বলছেন, এসব ছোট যন্ত্র বাতাসে ভেসে থাকতে পারে এবং এতে সেন্সর বসিয়ে জলবায়ু পর্যবেক্ষণও করা যাবে। একইসঙ্গে এগুলো মঙ্গল গ্রহে অনুসন্ধানের কাজেও লাগতে পারে।

প্রচলিত নভোযানের মতো এসব ছোট যানের বাতাসে ভেসে থাকার জন্য জ্বালানির প্রয়োজন হয় না, বরং আলো থেকে ‘ফোটোফোরেসিস’ নামের এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি নেয়। এ প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করে গত দেড়শ বছর ধরেই বস্তুকে ভাসিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

ফোটোফোরেসিসের ইতিহাস প্রায় দেড়শ বছরের হলেও এতদিন এর প্রয়োগ কেবল ছোট বস্তুতে বা খুব শক্তিশালী কৃত্রিম আলোতেই সীমিত ছিল। ফলে এর মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি। 

তবে এখন গবেষকরা বলছেন, ছিদ্রওয়ালা পাতলা শিট দিয়ে তৈরি এক সেন্টিমিটার দীর্ঘ এক উড়ুক্কু যন্ত্র বানাতে পেরেছেন তারা, যা প্রাকৃতিক সূর্যের আলো ব্যবহার করেই বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

এ উড়ুক্কু যন্ত্রটি তৈরি হয়েছে দুইটি পাতলা, ছিদ্রওয়ালা স্তর দিয়ে, যেগুলো ছোট ছোট সংযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একসঙ্গে লাগানো রয়েছে। এসব দিয়ে ছোট ডিস্ক বা চাকতির মতো গঠন তৈরি হয়েছে, যা বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

এগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপরের বিভিন্ন স্তরে পাঠানো যেতে পারে। এসব যন্ত্রের আকার সামান্য বড় করা গেলে এতে অ্যান্টেনা ও সার্কিট লাগানো যাবে, যা বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।

গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের ডিজাইন অন্য গ্রহেও ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন– বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে স্যাটেলাইট পাঠানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তবে এসব ক্ষুদ্র নভোযান ব্যবহার করলে তুলনামূলকভাবে কম খরচে মঙ্গলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

এ গবেষণার লেখক ‘পেন ইউনিভার্সিটি’র ইগর বারগাটিন বলেছেন, “এ প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে যদি কাজে লাগানো যায় তবে আগামী দশকের মধ্যেই এমন অসংখ্য ফোটোফোরেটিক ফ্লায়ার একসঙ্গে ব্যবহার করে মেসোস্ফিয়ারে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মাঝের স্তরের তাপমাত্রা, চাপ, রাসায়নিক গঠন ও বাতাসের গতিবিধি সম্পর্কে উচ্চ মানের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।”

গবেষণাপত্রটি ‘ফটোফোরেটিক ফ্লাইট অফ পারফরটেড স্ট্রাকচার ইন নিয়ার-স্পেস কন্ডিশন’ শিরোনামে প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ।