১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হার্ড ড্রাইভ থেকে হারানো ডেটা ফিরিয়ে আনা যায়! কীভাবে?

সার্কিট বোর্ড, স্পিন্ডল মোটর, বল বেয়ারিং এইগুলোর যেকোনো একটি খারাপ হলে হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

হার্ড ড্রাইভ থেকে হারানো ডেটা ফিরিয়ে আনা যায়! কীভাবে?
হার্ড ড্রাইভের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা হলো ‘হেড ক্র্যাশ’। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2025, 06:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:33 PM

হার্ড ড্রাইভ এমন একটি ডিভাইস, যার মধ্যে অনেকগুলো ছোট ছোট চলমান অংশ থাকে। এর ম্যাগনেটিক প্ল্যাটার নামের ডিস্কে ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। এই প্ল্যাটারগুলো একটি মোটরের সাহায্যে ঘোরে, আর একটি রিড/রাইট আর্ম সেই প্ল্যাটার জুড়ে চলাফেরা করে ডেটা পড়ে।

এই আর্মটি চলে একটি অ্যাকচুয়েটর-এর সাহায্যে এবং এর মাথা প্ল্যাটারের উপর একেবারে সামান্য দূরত্বে ভেসে থাকে। দূরত্ব এতটাই কম যে একটি ধুলার কণা গেলেও সমস্যা হতে পারে।

যে কোনো একটি যান্ত্রিক অংশ নষ্ট হলে পুরো হার্ড ড্রাইভ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে। কারণ এই যন্ত্রগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করে, তাই হার্ড ড্রাইভ বেশ নাজুক।

সার্কিট বোর্ড, স্পিন্ডল মোটর, বল বেয়ারিং এইগুলোর যে কোনো একটি খারাপ হলে হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক মার্কিন সাইট হাও স্টাফ ওয়ার্কস।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা হলো ‘হেড ক্র্যাশ’। এতে রিড/রাইট হেড প্ল্যাটারের ওপর পড়ে যায় এবং ম্যাগনেটিক স্তর ঘষে ফেলে দেয়। এতে ডেটা চিরতরে হারিয়ে যায়। প্ল্যাটারের অন্য অংশে থাকা ডেটা কিছুটা উদ্ধারযোগ্য হলেও, সাধারণত ডেটাগুলো সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকে, তাই এই ধরনের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর।

অন্য ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা কখনো কখনো আশীর্বাদও হতে পারে। যেমন কোনো অংশ নষ্ট হলেও যদি প্ল্যাটার ঠিক থাকে, তাহলে ডেটা এখনো হারায়নি। তখন সেই হার্ড ড্রাইভ যদি মেরামত করা যায়, তাহলে ডেটা আবার উদ্ধার করা সম্ভব।

হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হওয়ার সমস্যা সব সময় যান্ত্রিক না-ও হতে পারে। কখনো কখনো সমস্যা হয় কম্পিউটারের ফাইল সিস্টেম বা ইনডেক্স-এ।

কম্পিউটার একটি বিশেষ ধরনের ইনডেক্স ও ফাইল স্ট্রাকচার ব্যবহার করে ডিস্কে থাকা ফাইলগুলো পড়ে। যদি এই ইনডেক্স কোনোভাবে নষ্ট বা করাপ্টেড হয়ে যায়, তাহলে কম্পিউটার মনে করবে যে ডেটা নেই যদিও আসলে ডেটাগুলো ঠিকই ডিস্কে থাকে।

এই ধরনের সমস্যা অনেক সময় সফটওয়্যারের সাহায্যে ঠিক করা সম্ভব, তবে সেটা একটু জটিল হতে পারে এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।

আরেক ধরনের সমস্যা আছে, যেটা খুব বিভ্রান্তিকর কারণ, এতে আসলে হার্ড ড্রাইভ নষ্টই হয়নি!

অনেক সময় হার্ড ড্রাইভ সঠিকভাবে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলে, বা মাদারবোর্ডের ডেটা পাঠানো নিয়ন্ত্রণকারী অংশ বা ডিস্ক কন্ট্রোলার যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মনে হয় হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হয়ে গেছে।

হার্ড ড্রাইভ সাধারণত মাদারবোর্ডের সঙ্গে আইডিই, পিএটিএ বা এসএটিএ নামের কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। এই সংযোগে কোনো সমস্যা হলে বা মাদারবোর্ডের ডিস্ক কন্ট্রোলার নষ্ট হলে, উপসর্গ বা লক্ষণগুলো হার্ড ড্রাইভ নষ্ট হওয়ার মতোই দেখায় যেমন কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ চিনতে পারছে না।

হার্ড ড্রাইভ সারাতে যা করবেন

যদি বুঝতে পারেন যে হার্ড ড্রাইভে যান্ত্রিক কোনো সমস্যা হয়েছে, তাহলে তা মেরামত করাটা কঠিন হতে পারে। হার্ড ড্রাইভটি ঠিক করা এবং ডেটা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এর জন্য অনেক সময় পেশাদার সার্ভিস নিতে হয়, যা অনেক ব্যয়বহুল হতে পারে, হাজার হাজার টাকার বিষয় হতে পারে। এর মূল কারণ হলো, হার্ড ড্রাইভের ভেতরের অংশে কাজ করতে হয় সম্পূর্ণ ধুলাবিহীন পরিবেশে। হার্ড ড্রাইভের প্ল্যাটারে সামান্য পরিমাণ ধুলাও যদি পড়ে, তাহলে তা পুরো ড্রাইভটিই নষ্ট করে দিতে পারে।

চাইলে নিজের উদ্যোগে হার্ড ড্রাইভ মেরামত করার চেষ্টা করতে পারেন। না করার পরামর্শই সবাই দেবে, কারণ এটি অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য যথেষ্ট কারিগরি জ্ঞান লাগে। এ জন্য একই মডেল এবং সংস্করণের হার্ড ড্রাইভ থেকে একদম মিলে যাওয়া যন্ত্রাংশ খুঁজে বের করতে হবে, যা খোদ পেশাদারদের জন্যও বেশ চ্যালেঞ্জিং।

যদি সার্কিট বোর্ড নষ্ট হয় তাহলে নিজেরাই সেটি পরিবর্তন করে দেখতে পারেন। কিন্তু যদি স্পিন্ডল মোটর বা রিড/রাইট একচুয়েটরের মতো জটিল অংশ নষ্ট হয়ে যায়, সেগুলো মেরামত করা অনেক কঠিন। মনে রাখতে হবে, যদি ড্রাইভটি খুলে ফেলেন, তবে এর ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। এবং কখনোই হার্ড ড্রাইভের প্ল্যাটারের উপর হাত দেবেন না, কারণ আঙুলের তেলেই ডেটা চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

যদি সমস্যাটি হয় সফটওয়্যারজনিত যেমন ফাইল স্ট্রাকচার বা ডিস্ক ইনডেক্স নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সেটি ঠিক করা সম্ভব বিশেষ কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে। বেশিরভাগ অপারেটিং সিস্টেমেই ‘এফডিস্ক’ নামের একটি টুল থাকে, যা কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। 

তবে এই ধরনের টুল ব্যবহারে অত্যন্ত সাবধান হতে হয়, কারণ ভুলভাবে পার্টিশন বদলানো বা ড্রাইভ ফরম্যাট করে ফেললে সব ডেটা হারিয়ে যেতে পারে। আরও ভালো বিকল্প হলো ‘ডিস্ক ওয়ারিয়র’-এর মতো কোনো বিশেষ ডেটা রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করা। এই ধরনের টুল অনেক সময় ফাইল স্ট্রাকচার ঠিক করে ডেটা রক্ষা করতে পারে। তবে কিছু করাপ্টেড ফাইল হয়তো আর কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।