Published : 15 Jan 2026, 05:45 PM
দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের বাজারে আবার দেখা মিলল এক সময়ের জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড এইচটিসির। এবার ব্র্যান্ডটি শুধু ফোন আনেনি, বাংলাদেশেই স্মার্টফোন তৈরি শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারে সদ্য এসেছে এইচটিসির নতুন মডেল ‘ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ’।
দেশীয় কোম্পানি সেলেক্সট্রা লিমিটেড ফোনটির উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করছে।
এক সময় বিশ্বের প্রথম টাচস্ক্রিন হ্যান্ডসেট এবং প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে এনে এইচটিসি বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে নেতৃত্ব দিয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ব্র্যান্ডটি আবারও নতুন করে যাত্রা শুরু করল, আর সেই যাত্রার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদনে গেল।
ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফকে সাশ্রয়ী দামের স্মার্টফোন হিসেবে বাজারে এনেছে কোম্পানিটি। ফোনটিতে ইউনিসক টাইগার টি৬১৫ অক্টাকোর প্রসেসর ব্যবহার করেছে। ৬ দশমিক ৭৪৫ ইঞ্চির এইচডি+ ডিসপ্লেতে ওয়াটারড্রপ নচ ও ইনসেল প্রযুক্তির সঙ্গে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট এবং ৪৮০ নিটস উজ্জ্বলতা রয়েছে।
ক্যামেরা অংশে ফোনটিতে ৫০ ও ০ দশমিক ৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। সামনে রয়েছে আট মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ৬ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজের এই ফোনে পাঁচ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ব্যবহার করছে নির্মাতা। গ্রে ও শ্যাম্পেন গোল্ড এই দুই রঙে মডেলটি পাওয়া যাচ্ছে। দাম নির্ধারণ করেছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা।
এই মডেলের সঙ্গে গ্রামীণফোন সাত দিনের জন্য ৫ জিবি ডেটা ফ্রি দিচ্ছে। পাশাপাশি ৯৯ টাকায় সাত দিনের জন্য ১০ জিবি এবং ২৯৮ টাকায় ৩০ দিনের জন্য ৪০ জিবি ডেটার দুটি বিশেষ প্যাকেজও দিচ্ছেি এ অপারেটর। ছয় মাস পর্যন্ত যে কোনো সময় এই প্যাকেজগুলো নেওয়া যাবে।
সেলেক্সট্রা লিমিটেডের বিপণন প্রধান মামুন খান বলেন, এই মূল্যস্তরে ওয়াইল্ডফায়ার ই৭ লাইফ বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় ফোনগুলোর একটি। তিনি বলেন, ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং অন্যান্য ফিচারের সমন্বয় ফোনটিকে প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। দেশে উৎপাদনের কারণে কোম্পানি গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি দামও ক্রেতাদের নাগালে রাখতে পারছে।
১৯৯৭ সালে তাইওয়ানে এইচটিসি যাত্রা শুরু করে। এক বছরের মধ্যেই তারা বিশ্বের প্রথম টাচস্ক্রিন ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেট বাজারে আনে। পরে উইন্ডোজ মোবাইলভিত্তিক পিডিএ ও স্মার্টফোন তৈরি করে এবং ২০০৮ সালে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন ‘এইচটিসি ড্রিম’ উন্মোচনের মাধ্যমে প্রযুক্তি ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
সময়ের সঙ্গে বাজার শেয়ার কমলেও ব্র্যান্ডটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় কারখানায় বিশ্বমানের ফোন তৈরির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে বলে আশা করছে উদ্যোক্তা কোম্পানিটি।