Published : 04 Sep 2026, 10:20 AM
টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী জন টার্নাস।
নতুন এ দায়িত্বের জন্য তিনি মূল বেতনের পাশাপাশি কোম্পানির শেয়ার পাবেন, যার বড় অংশই নির্ভর করবে কোম্পানিতে অর্জিত তার পারফরম্যান্সের ওপর।
এদিকে, অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে পাওয়া ভাতা ও শেয়ার মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের পারিশ্রমিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন কোম্পানির নতুন পদে বসা টিম কুক।
পদত্যাগ পরবর্তী টিম কুকের এ পারিশ্রমিক প্যাকেজ কোম্পানিটির নতুন প্রধান নির্বাহী টার্নাসের নির্ধারিত ভাতার প্রায় কাছাকাছি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার জন টার্নাসের কাছে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন টিম কুক। নতুন চুক্তিতে তিনি ২০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার পাবেন।
এ শেয়ারের অর্ধেক টিম কুকের কর্মক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হবে, আর বাকি অর্ধেক চার বছর ধরে পরিশোধ হবে।
অন্যদিকে, নতুন সিইও টার্নাস পাবেন ৩০ লাখ ডলার মূল বেতন ও ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের শেয়ার, যা তার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।
প্রধান নির্বাহী হিসেবে ২০২৫ সালে টিম কুকের মোট পারিশ্রমিক ছিল ৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি।
বর্তমানে অ্যাপলের ৩০ লাখেরও বেশি শেয়ারের মালিক টিম কুককে ‘মাল্টি-বিলিয়নেয়ার’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফোর্বস। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার।
তার পূর্বসূরী ও অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বছরে প্রতীকী ১ ডলার বেতন নিতেন। তবে প্রয়াণকালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিও বিক্রির সূত্রে পাওয়া ডিজনি’র শেয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অপারেশনস বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাফল্য দেখিয়ে ২০১১ সালে জবসের স্থলাভিষিক্ত হন কুক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অ্যাপলের শেয়ারের দাম ২২০০ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে টিম কুক যখন সিইও হন তখনকার ৩৫ হাজার কোটি ডলারের অ্যাপল আজ প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
অ্যাপলের জটিল ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ৫১ বছর বয়সি প্রকৌশলী ও অ্যাপলের দীর্ঘদিনের কর্মী জন টার্নাস।
এর আগে, হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন পণ্য নির্মাণে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
দায়িত্বের অংশ হিসেবে তাকে আইফোনসহ অ্যাপলের পুরো পণ্য সারির প্রকৌশল দলের নেতৃত্ব দিতে হয়েছে, যা কোম্পানিটির আয়ের প্রধান উৎস।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা এখন কেবল নতুন পণ্যের প্রত্যাশাই করছেন না, বরং অ্যাপল হার্ডওয়্যারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যোগ করার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠানে নতুন সিইও হিসেবে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আসবেন টার্নাস। এ অনুষ্ঠানে ফোল্ডএবল আইফোন উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডসের নতুন সংস্করণ আসার পূর্বাভাস থাকলেও গেল সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে ক্যামেরা সংবলিত এয়ারপডস দ্রুত বাজারে আসছে না।
অ্যাপলের নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে টিম কুকের কাজের পরিধিতে থাকছে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মেলবন্ধন রক্ষা। এর মধ্যে অন্যতম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা ও অ্যাপলের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ দেখভাল করা।
সোমবার কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিদায়ী স্মারকে অ্যাপলের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের ওপরই গুরুত্বারোপ করেছেন টিম কুক।
তিনি লিখেছেন, “আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকার বিষয়টিকে আমি মিস করব।
“তবে জনের মতো একজন দারুণ, মেধাবী ও দক্ষ মানুষের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে পেরে আমি আশ্বস্ত। বিশ্বকে বদলে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি পণ্য তৈরির বিষয়টি জনের চেয়ে কম মানুষই ভালো বোঝেন।”