নতুন রেকর্ড অ্যামাজনের: অর্জনে নয়, খোয়ানোয়

অ্যামাজন শুক্রবার নাগাদ ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করলেও বুধবারের রেকর্ড পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Nov 2022, 07:26 AM
Updated : 13 Nov 2022, 07:26 AM

মার্কেটপ্লেস থেকে শুরু করে ওয়েব সাভির্স পর্যন্ত নানা খাতেই রেকর্ড করার ইতিহাস রয়েছে অ্যামাজনের। তবে সর্বশেষ রেকর্ডটি শীর্ষ এই কোম্পানিকে কোনো সুখ স্মৃতি দেবে না।

শেয়ার বাজারে এক লাখ কোটি ডলারের মূলধন খোয়ানো প্রথম পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছে অ্যামাজন।

২০২১ সালের জুলাই মাসে এক লাখ ৮৮ হাজার কোটি ডলার বাজার মূলধনের মাইলফলক ছুঁয়েছিল এ ই-কমার্স জায়ান্ট। এক বছর তিন মাসের ব্যবধানে গেল সপ্তাহে কোম্পানির বাজার মূলধন নেমে এসেছে ৮৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

শুক্রবার নাগাদ ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছে কোম্পানিটি; ১ লাখ ২ হাজার কোটিতে ফিরেছে এর বাজার মূল্য। তবে, অ্যামাজনের বুধবারের রেকর্ড পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, নাজুক অর্থনীতি, কোভিড পরবর্তী সরবরাহ জটিলতা এবং প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা কমাসহ নানা কারণে দুর্দিন চলছে সার্বিক প্রযুক্তি শিল্পে। এর বিরূপ প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেনা লাখ কোটি ডলারের বেশি বাজার মূলধনের কোম্পানিগুলোও।

মাইক্রোসফটের বাজার মূলধন ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার থেকে নেমে এসেছে ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি ডলারে। ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে ১ লাখ কোটি ডলার বাজারমূলধনের মাইলফলক ছুঁয়েছিল মেটা, তথা তৎকালীন ফেইসবুক। শুক্রবার দিন শেষে কোম্পানিটির বাজার মূল্যের আকার ছিল ৩০ হাজার কোটি ডলারের নিচে।

কেবল মাইক্রোসফট, মেটা বা অ্যামাজন নয়; প্রযুক্তি শিল্পের অন্যান্য খাতও দুর্দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে সিনেট। ২০২২ সালের পুরোটা জুড়ে বিক্রি হওয়া ভিডিও গেইমের সংখ্যা কমে আসার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২১ সালে স্ট্রিমিং খাতের কোম্পানিগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করলেও এ বছরে এসে অর্থনৈতিক অস্থিরতার বাস্তবতায় আয় বাড়ানোর নতুন কৌশল খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে নেটফ্লিক্সের মতো স্ট্রিমিং জায়ান্ট।

বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, কোম্পানির খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জেসি।

প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিকটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অলাভজনক প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দিয়ে কর্মীদের ভিন্ন খাতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন জেসি। এ ছাড়াও, নিজস্ব ডিভাইস ব্যবসাও পর্যালোচনা করে দেখছে অ্যামাজন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক