গ্রাহকদের নতুন অ্যাপের দিকে টানার পরিবর্তে চলতি সাবস্ক্রিপশন থাকা অ্যাপ থেকেই আয় করার দিকে নজর দিয়েছে কোম্পানিগুলো।
Published : 19 Dec 2024, 05:07 PM
মন্দা কাটিয়ে বৈশ্বিক অ্যাপ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার অব্যাহত ছিল এ বছর। অন্তত ভোক্তাদের খরচের হিসাবে।
২০২৪ সালে মোবাইল অ্যাপস ও গেইমগুলোতে বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের ব্যয়, অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে মিলিয়ে ১২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক সাত শতাংশ বেশি। তবে, অ্যাপ ইন্টেলিজেন্স ফার্ম অ্যাপফিগারসের তথ্য অনুসারে, এ বৃদ্ধি বেশিরভাগ হয়েছে অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে, অন্যদিকে গুগল প্লেতে ব্যবহারকারীদের খরচ কমেছে।
অ্যাপে ভোক্তাদের খরচ বাড়লেও সামগ্রিকভাবে এ খাতের জন্য আরেকটি চিন্তার বিষয়ও ছিল এ বছর। বিশ্বব্যাপী অ্যাপ ডাউনলোড ২০২৩ সালের তুলনায় দুই দশমিক তিন শতাংশ কমে ১১ হাজার কোটিতে নেমেছে। তথ্য অনুসারে কমে যাওয়ার প্রবণতা উভয় অ্যাপ স্টোরেই দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চ।
অ্যাপ খাতের ব্যাপক প্রবৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত সমান সমান হতে পারে এমন লক্ষণ এবারই প্রথম নয়। অ্যাপ অর্থনীতি পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, গ্রাহকদের নতুন অ্যাপ ডাউনলোড করার দিকে নজর দেওয়ার পরিবর্তে চলমান সাবস্ক্রিপশন থাকা অ্যাপ থেকেই আয় করার দিকে নজর দিয়েছে কোম্পানিগুলো।
উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বব্যাপী মাত্র পাঁচ শতাংশ অ্যাপই সাবস্ক্রিপশনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে, অ্যাপফিগারসের তথ্য অনুসারে উভয় অ্যাপ স্টোর জুড়ে অ্যাপের আয়ের ৪৮ শতাংশ এসেছে চলতি সাবস্ক্রিপশন থেকেই। এ ছাড়া, বিশ্বব্যাপী আয় করা শীর্ষ ১০ অ্যাপ ভোক্তাদের মোট ব্যয়ের ১৩ দশমিক সাত শতাংশ তৈরি করেছে, যা ২০২৩ সালের ১২ দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে এক দশমিক দুই শতাংশ বেশি।
এদিকে, বর্তমানের বেশিরভাগ অ্যাপ উদ্ভাবন হচ্ছে এআই খাতে। তবে, গত কয়েক বছরে অ্যাপল বছরের সেরা অ্যাপ বাছাই করার সময় এআই প্রবণতাকে বাদ দিয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৩ সালে যথাক্রমে ভিডিও অ্যাপ ‘কিনো’ এবং হাইকিং অ্যাপ ‘অলট্রেইল’ পুরস্কারটি পেয়েছে।
অ্যাপ ডাউনলোড কমার প্রবণতা দেখা গেছে উভয় মার্কেটপ্লেসজুড়ে।
২০২৪ সালে মোট এগারো হাজার কোটি ডলারের ডাউনলোডের মধ্য আইওএস থেকে এসেছে দুই হাজার আটশ ৩০ কোটি ডাউনলোড, যা আগের বছরের চেয়ে এক দশমিক এক শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, এ বছর গুগল প্লেতে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড দুই দশমিক ছয় শতাংশ কমে হয়েছে আট হাজার একশ চল্লিশ কোটি ডলার।
অ্যাপল ও গুগল কীভাবে ২০২৪ সালে নিজেদের অ্যাপ স্টোর পরিচালনা করেছে তার সঙ্গেও ডাউনলোডের কমে যাওয়ার আংশিক সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে গুগল গত বছর স্প্যাম ও অন্যান্য নিম্ন-মানের অ্যাপে বাধা দিয়েছে। ফলে, গুগলপ্লেতে নতুন অ্যাপ প্রকাশ কমেছে ৬০ শতাংশ। অ্যাপ পরীক্ষা ও পর্যালোচনায় নির্মাতাদের জন্য বাড়তি সব নিয়ম সম্ভবত এর কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে টেকক্রাঞ্চ।
২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রাম ডাউনলোড হয়েছে সর্বোচ্চ ৬৪ কোটিবার। ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য শীর্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ যেমন, স্ন্যাপচ্যাট, ফেইসবুক এবং টিকটকও ২০২৪ সালে ইলন মাস্কের এক্স-এর তুলনায় বেশিবার খুঁজেছেন ব্যবহারকারীরা।
২০২৪ সালে অ্যাপ ডাউনলোড সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মেক্সিকোতে। ২০২৩ সালের তুলনায় দেশটিতে ২২ কোটি ৫০ লাখ বার বেশি ডাউনলোড হয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ।
রাজস্বের দিকে দেখলে, অ্যাপ অর্থনীতি এখনও নির্মাতা ও অ্যাপ স্টোরগুলোর জন্য একইভাবে অর্থ আয় করছে। অন্তত অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এমনটাই লক্ষণীয় বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার, ভোক্তাদের মোট ব্যয়ের নয় হাজার একশ ৬০ কোটি ডলারই এসেছে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে, যা এ বছর ২৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে গুগলের প্লে স্টোর ব্যবহারকারীদের গোটা বছরের খরচ দেড় শতাংশ কমে বিশ্বব্যাপী তিন হাজার পাঁচশ ৭০ কোটি ডলারে নেমেছে।
ভোক্তাদের খরচের দিক থেকে এ বছর বিশ্বের শীর্ষ অ্যাপ ছিল টিকটক। চীনের অ্যাপ স্টোরের হিসেব ছাড়া, কেবল অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস মিলিয়ে এর টিকটকের আনুমানিক আয় অন্তত আড়াইশ কোটি ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও সেরা অ্যাপ ছিল টিকটক, যেখানে আয় এসেছে অন্তত একশ ৩০ কোটি ডলার।