১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইন শপিং থেকে ট্রিপ প্ল্যান, সব সামলাবে মেটার এআই এজেন্ট

মেটার অ্যাপ ছাড়াও গুগল ওয়ার্কস্পেস, টিকেটমাস্টার, ওপেনটেবল, স্পটিফাই ও অ্যাপল হেলথের মতো জনপ্রিয় থার্ড-পার্টির সঙ্গেও যোগ হতে পারে এআই এজেন্টটি।

অনলাইন শপিং থেকে ট্রিপ প্ল্যান, সব সামলাবে মেটার এআই এজেন্ট
চলার পথে যোগাযোগ আরও সহজ করতে হোয়াটসঅ্যাপ ও নিজেদের স্মার্ট চশমাতেও এই এজেন্টকে যোগ করেছে মেটা। ছবি: মেটা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 03:03 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ করতে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ব্যক্তিগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট উন্মোচন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা।

কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই সেটআপ করা যাবে ‘মিউজ’ নামের এআই এজেন্টটিকে, যা অনলাইন কেনাকাটা, ইমেইল ড্রাফট ও পাঠানো থেকে শুরু করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করাসহ নানা জটিল কাজ ব্যবহারকারীর হয়ে করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

এর আগে, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এমন এআই এজেন্ট তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, যা মানুষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে জীবনকে সহজ করে তুলবে।

তবে ‘ওপেনক্ল’র মতো প্ল্যাটফর্মের তুলনায় এটাকে বেশি সহজ ও ব্যবহারবান্ধব ফরম্যাটে আনা হয়েছে। নিজস্ব অ্যাপ ও ডেডিকেটেড ওয়েবসাইটওয়ালা ‘মিউজ’ মেটা এআই সহকারীর চেয়ে বেশি শক্তিশালী। কারণ তা জটিল কাজ পরিচালনা করতে পারে।

এ বিষয়ে এক ব্লগ পোস্টে মেটা বলেছে, “কোনো ব্যক্তি মিউজের সঙ্গে নিজেদের কাজের টার্গেট শেয়ার করার পর তাদের পরিকল্পনা তৈরিতে এবং সময় ও সম্পদ সমন্বয় করে এরপর নিজে থেকেই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যায় মিউজ।”

মিউজ ব্যবহারকারীর জন্য ঠিক কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার ডিজিটাল জীবনের কতটা অংশ এর নিয়ন্ত্রণে দিতে সম্মত আছেন তার ওপর।

মেটার নিজস্ব অ্যাপ ছাড়াও গুগল ওয়ার্কস্পেস, টিকেটমাস্টার, ওপেনটেবল, স্পটিফাই ও অ্যাপল হেলথের মতো জনপ্রিয় থার্ড-পার্টির সঙ্গেও যোগ করা যেতে পারে মিউজ। যেমন, ইনস্টাগ্রাম বা ফেইসবুকে ব্যবহারকারীর সেইভ করে রাখা বিভিন্ন রেসিপির ভিডিও খুঁজে বের করে সেগুলোকে আরও সহজে পড়ার উপযোগী করে সাজিয়ে দিতে পারবে এই এজেন্ট।

এ ছাড়া, এর উন্নত ব্রাউজিং ও শপিংয়ের সক্ষমতা থাকায় এটি বাজারের তালিকা তৈরি, বিভিন্ন পণ্যের দামের তুলনা করা এবং ব্যবহারকারীর পক্ষে সরাসরি অর্ডার সম্পন্ন করতে পারে।

পাবলিক এপিআই সুবিধা থাকলে যে কোনো থার্ড-পার্টি সেবার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ তৈরি করতে পারবে মিউজ।

এ প্রসঙ্গে মেটার এআই পণ্যের ভিপি ভিশাল শাহ বলেছেন, “যেহেতু এআই এজেন্টটি নিজের সফটওয়্যারও তৈরি করতে পারে ফলে এটা যা করতে পারে তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

“জটিলতার দিক থেকে এজেন্টটিকে বেশি সহায়ক করে তুলতে হলে আপনাকে কেবল এটাকে আরও বেশি সাইটে অ্যাক্সেস দেওয়ার ও আপনার কাছে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ তা জানানোর ক্ষেত্রে অভ্যস্ত হতে হবে।”

তবে মেটার এই এআই এজেন্টের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে হলে ব্যবহারকারীকে কোম্পানি ও তার এজেন্টের প্রতি বেশ ভালো মাত্রার বিশ্বাস রাখতে হবে।

মেটা বলেছে, এআই এজেন্ট যেন কোনো অনিয়ন্ত্রিত বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে না চলে যায় ও ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষিত থাকে সেজন্য এতে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যোগ হয়েছে। ইমেইল পাঠানো বা কোনো কেনাকাটা চূড়ান্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে ব্যবহারকারীর অনুমোদন চাইবে মিউজ।

এক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজ ব্যবহারকারীর অনুমতি না নিয়েই নিজে থেকেই করতে পারবে এআই এজেন্টটি। পর্দার আড়ালে ডেডিকেটেড এক ভার্চুয়াল মেশিনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় মিউজ, যার উদ্দেশ্য প্রত্যেক ব্যবহারকারীর এজেন্ট এবং এর অ্যাক্সেস পাওয়া ডেটা অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও সুরক্ষিত রাখা।

এরপরও এআই এজেন্ট অপ্রত্যাশিত আচরণ করতে পারে ও মেটা স্বীকার করেছে, এক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি বা হোঁচট খাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

কোম্পানির ব্লগ পোস্টে লেখা হয়েছে, “মিউজ ভুল করতে পারে ও ভবিষ্যতেও করবে। তবে আমাদের তৈরি করা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আমরা আশা করছি এসব ভুলের হার ও এর ফলে ক্ষতির পরিমাণও কম হবে।”

মানুষের দোরগোড়ায় ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পৌঁছে দেওয়ায় মার্ক জাকারবার্গের মূল লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই এজেন্ট। মেটা এমন এক ভবিষ্যতের কল্পনা করছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কাজে নিয়মিত সচল থাকবে মিউজ।

চলার পথে যোগাযোগ আরও সহজ করতে হোয়াটসঅ্যাপ ও নিজেদের স্মার্ট চশমাতেও এই এজেন্টকে যোগ করেছে মেটা।