Published : 01 Aug 2024, 04:41 PM
চাঁদে বিপন্ন প্রাণী পাঠানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
এ সংরক্ষাণাগারে পৃথিবীতে ঝুঁকির মুখে থাকা বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতির নমুনা রাখার সুযোগ মিলবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
বিজ্ঞানীদের দাবি, এর ফলে প্রাণীগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন ঝুঁকি ছাড়াই সংরক্ষিত অবস্থায় থাকবে।
তারা আরও যোগ করেন, এতে করে বিভিন্ন এমন প্রাণীর দীর্ঘমেয়াদী রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাবে, যেগুলো পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। আর এদের শারীরিক গঠন সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে ‘ক্রায়োপ্রিজার্ভড’ নামের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্মিথসনিয়ান’স ন্যাশনাল জু’ ও ‘কনভার্শন বায়োলজি ইনস্টিটিউট’র গবেষক মেরি হেগেডর্ন নেতৃত্বাধীন গবেষণা দলের লেখা নতুন এক নিবন্ধে চাঁদের মাটিতে একটি সংরক্ষাণাগার নির্মাণের ধারণা দিয়েছেন গবেষকরা।
পরিকল্পনা অনুসারে, এটি স্থাপন করা যেতে পারে চাঁদের দুই মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে, যা সবসময় ছায়ায় আবৃত থাকে। আর সেইসব অঞ্চলের তাপমাত্রা -১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হওয়ায় তাতে প্রাণীগুলোকে ফ্রিজিং করার সুবিধাও মিলবে।
গবেষকরা বলছেন, এতে করে বিভিন্ন জৈবিক নমুনা দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদেরকে চাঁদে রাখার মানে হচ্ছে, এদের সংরক্ষণের জন্য সার্বক্ষণিক শীতল তাপমাত্রা বজায় রাখতে কোনো শক্তির উৎস তৈরির দরকার পড়বে না। শক্তির উৎস, বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পৃথিবীতে এমন ভাণ্ডার তৈরির ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মতো বিপর্যয় থেকেও সুরক্ষিত থাকবে এ সংরক্ষাণাগার।
প্রাথমিকভাবে এই সংরক্ষাণাগার ব্যবহার হতে পারে প্রাণীদের চামড়ার নমুনা রাখার উদ্দেশ্যে, যার মধ্যে থাকতে পারে ‘ফাইব্রোব্লাস্ট’ শ্রেণির কোষও। তবে, ‘স্টারি গবি’ শ্রেণির মাছের নমুনা এতে কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়ে এরইমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছে গবেষণা দলটি।
গবেষকরা বলছেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জই সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও চাঁদে নিরাপদে বিভিন্ন নমুনা নিয়ে যাওয়া, এদেরকে বিকিরণ থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সংরক্ষাণাগার নির্মাণ ও এর পাহাড়া দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করা।
গবেষণাপত্রে তারা আরও যোগ করেন, এমন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এ কাজের বাস্তবায়ন অনিবার্য। কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে এইসব প্রজাতি বাচিয়ে রাখার সক্ষমতার চেয়ে এদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার গতি অনেক বেশি।
প্রস্তাবনাটি উঠে এসেছে ‘সেইফগার্ডিং আর্থ’স বায়োডাইভার্সিটি বাই ক্রিয়েটিং এ লুনার বায়োরেপোসিটোরি’ শিরোনামের নতুন এক নিবন্ধে, যা প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘বায়োসায়েন্স’-এ।