Published : 10 Oct 2025, 04:44 PM
অবশেষে টুইটারের সাবেক চার জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাল মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ও তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি এক্স।
টুইটারের ওই সাবেক চার নির্বাহীর মধ্যে রয়েছেন পারাগ অগারওয়ালও। তাদের অভিযোগ ছিল, টুইটার অধিগ্রহণের পর প্রতিশ্রুত ১২.৮ কোটি ডলার বেতন না দেওয়ার পাশাপাশি তাদের চাকরি থেকেও বরখাস্ত করেছেন মাস্ক।
গত সপ্তাহে স্যান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে দাখিল করা এক নথিতে প্রথমবার এই সমঝোতার কথা জানানো হল। তবে এতে চুক্তির কোনো শর্তাবলী কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এর আগে, সমঝোতাটি চূড়ান্ত করতে বুধবার মামলার নথি দাখিলের সময়সীমা ও শুনানির তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন এক ফেডারেল বিচারক।
গত অগাস্টে আরও একটি আলাদা মামলায় সমঝোতায় রাজি হয়েছিল এক্স, যেখানে টুইটারের সাধারণ কর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন, গণছাঁটাইয়ের সময় তাদের চাকরি চলে যাওয়ার পরও কোম্পানি তাদের প্রাপ্য ৫০ লাখ ডলারের বেতন দেয়নি।
রয়টার্স লিখেছে, এসব মামলা সেই একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের অংশ, যেগুলোর মুখোমুখি হয়েছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মাস্ক। ২০২২ সালে চার হাজার চারশ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণের পর কোম্পানির অর্ধেকেরও বেশি কর্মী ছাঁটাই করেন ও প্লাটফর্মটির নাম পরিবর্তন করে ‘এক্স’ রাখেন তিনি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি এক্স ও টুইটারের সাবেক শীর্ষ কর্মীদের আইনজীবীরা। এ মামলার বাদীদের মধ্যে রয়েছেন টু্ইটারের সাবেক সিইও পারাগ অগারওয়াল, সাবেক অর্থ প্রধান নেড সেগাল, সাবেক প্রধান আইন কর্মকর্তা বিজয়া গাড্ডে ও সাবেক জেনারেল কাউন্সেল শন।
সাবেক নির্বাহীদের দাবি, মাস্ক তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে টুইটার থেকে জোর করে বের করে দিয়েছিলেন এবং টুইটার কেনার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এরপর মাস্কের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন তারা।
মামলার অভিযোগ অনুসারে, টুইটার কেনার পর ওই কর্মকর্তাদের সেভারেন্স পে বা বেতন দিতে অস্বীকার করেন মাস্ক, যা তাদের ন্যায্য পাওনা ছিল।
বাদীরা দাবি করেছেন, প্রত্যেকেরই এক বছরের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ও কয়েক লাখ ডলারের শেয়ার পাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে মাস্ক ও তার কোম্পানি এক্স। তারা বলেছে, ওই কর্মকর্তাদের সক্ষমতার ভিত্তিতেই কেবল তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে কোম্পানিটি।