Published : 13 Oct 2025, 10:37 AM
৯/১১ হামলার আগে বেশিরভাগ যাত্রী হয়ত প্লেন ককপিটের নিরাপত্তা নিয়ে খুব চিন্তা করতেন না। তবে সেই ঘটনার পর অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হতে পারে, যাত্রী ওঠা বা নামার সময় ককপিটের দরজা প্রায়ই খোলা থাকে। কিন্তু কেন?
বিষয়টি আসলে স্বাভাবিক এক প্রক্রিয়া বা প্রচলিত নিয়ম, যা পাইলট, গ্রাউন্ড ক্রু ও কেবিন ক্রুদের মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয়। প্লেন মাটি থেকে ওড়ার আগে ও অবতরণের পর এই যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
প্লেন ওড়ার আগের সময়টায় ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় পাইলট, গেইট কর্মী, লাগেজ হ্যান্ডলার এবং রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের দল সবাই একসঙ্গে কাজ করে তথ্য বিনিময় করেন যাতে প্লেনে যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়।
কিছু যোগাযোগ দ্বিমুখী রেডিওর মাধ্যমে করা যায়। তবে সরাসরি মুখোমুখি হয়ে কথা বললে বোঝাপড়া অনেক স্পষ্ট হয় ও প্রয়োজনীয় যে কোনো সামগ্রী সহজেই হস্তান্তর করা যায়। ককপিটের দরজা খোলা রাখলে বিভিন্ন কর্মী প্রয়োজন অনুসারে পাইলটদের কাছে এসে সরাসরি কথা বলতে পারেন। এতে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টরা সাধারণত দরজার কাছেই থাকেন যাতে যাত্রীরা বিরক্তিকরভাবে কৌতূহলী হয়ে দরজার কাছে না আসেন।
ককপিটের দরজা খোলা থাকাকালীন প্লেনের জ্বালানির অবস্থা, আবহাওয়া পরিস্থিতি, যাত্রীসংখ্যা ইত্যাদি তথ্য সরাসরি মুখোমুখি আলাপের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। এ ছাড়া, কোনো ফ্লাইট পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে গ্রাউন্ড কর্মীদের ককপিটে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর বা পরিবর্তন নিশ্চিতও করতে পারে।
রক্ষণাবেক্ষণ দলও প্লেন ওড়ানের আগে শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা মেরামত কাজ করতে পারেন। এতে ককপিটের দরজা খোলা থাকলে সময় সাশ্রয় হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে, নিরাপত্তার কারণে ফ্লাইট যখন গেট থেকে পিছিয়ে যায় এর আগে ককপিটের দরজা অবশ্যই বন্ধ ও লক করা বাধ্যতামূলক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেগুলেশন কোড অনুসারে, পাইলটদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, ‘প্লেন পরিচালনার সময় ফ্লাইট ক্রুদের ককপিট ও যাত্রী কেবিনের মধ্যে থাকা দরজাটি সর্বদা বন্ধ ও লক থাকবে। তবে এর একটি ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন– অনুমোদিত ব্যক্তিদের যদি ককপিটে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন পড়ে তখন দরজা খোলা যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএফএ-এর ককপিটের দরজা খোলা, বন্ধ করার নির্দিষ্ট নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে’।
ব্যক্তিগত প্লেনও কি একই নিয়ম অনুসরণ করে?
এর উত্তর কিছুটা জটিল। অনেক ছোট আকারের প্রাইভেট জেট-এ আসলে ককপিট ও যাত্রী কেবিন আলাদা করার মতো কোনো দরজাই থাকে না। অন্যদিকে, বিশ্বের কিছু বড় প্রাইভেট জেট আসলে পুরানো বাণিজ্যিক প্লেনই, যেগুলোকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পরিবর্তন করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। এসব প্লেনে ফেডারেল নিয়ম অনুসারে, শক্তিশালী ককপিট দরজা বসানো থাকে।
এসব দরজা গুলিবিদ্ধ বা বিস্ফোরণ প্রতিরোধী ও প্রায় এক হাজার ৫০০ পাউন্ড চাপেও ভেঙে যায় না বা খোলা যায় না। তবে সব প্রাইভেট জেটই আসলে কোনো কোটিপতি ক্রীড়াবিদ বা বিনোদন তারকার মালিকানাধীন নয়। অনেকগুলো আসলে বিভিন্ন দেশের সরকারের মালিকানাধীন, যা রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও তাদের টিমকে পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এমন ক্ষেত্রে প্লেন যখন এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায় তখন ককপিট দরজা সংক্রান্ত নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। এসব নিরাপত্তা মানদণ্ড যাত্রী ও ফ্লাইট নিরাপত্তা বজায় রাখতে কার্যকর হলেও তা সব ধরনের প্লেনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
এ কারণে ‘এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন’ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক পোস্টে এফএফএ ও মার্কিন কংগ্রেসের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন সব প্লেনের ককপিট দরজা সম্পর্কিত বিভিন্ন নিয়ম আরও একীভূত ও সুনির্দিষ্টভাবে প্রয়োগ হয়।