Published : 25 Jun 2026, 08:02 PM
চোখে জল টলমল করছিল স্পষ্টতই। কখনও কান্নার দমক আটকানোর চেষ্টা করলেন নেইমার, কখনও তার গাল বেয়ে নামল জলধারা। শেষ বাঁশি বাজার পর তার আবেগের প্রকাশ ও কান্নার স্বাক্ষী হয়েছেন মাঠে থাকা দর্শকেরা। টিভি পর্দায় দেখেছেন কোটি কোটি মানুষ। সেসব ছবি ও ভিডিও বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে সেখানেই শেষ নয়। ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে ফিরেও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ৩৪ বছর বয়সী তারকা চোখের জল ফেলেছেন সেখানেও।
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোরে শেষ হয়েছে নেইমারের অপেক্ষা। ৯৮১ দিন পর আবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।
এই ম্যাচের আগে সবশেষ তাকে দেশের জার্সিতে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। হাঁটুতে গুরুতর চোটে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে পড়ার পর তার ফুটবল ক্যারিয়ারই ছিল অনিশ্চয়তায়। শারীরিক সুস্থতা আর মানসিক প্রশান্তির আশায় তিনি আল হিলাল ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। সেখানেও কয়েক দফায় চোট হানা দেয়। অনেক ঘাম ঝরানো, লড়াই আর ত্যাগের পথ ধরে তিনি একটু একটু করে নিজেকে ফিরে পেতে থাকেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া ছিল প্রবল অনিশ্চিত। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে রাখেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেলেও মাঠে নামতে অপেক্ষায় থাকতে হয় আরেক দফা চোটে। দল যখন বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে, তখনও তিনি আলাদা অনুশীলন করছেন। শেষ পর্যন্ত তার ও ফুটবলবিশ্বের প্রতীক্ষা শেষ হলো। স্কটিশদের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে যখন তিনি মাঠে নামেন, গোটা গ্যালারি দাঁড়িয়ে ও গর্জন করে অভিবাদন জানায় তাকে।
এরপর মাঠে যতক্ষণ ছিলেন, গোল না পেলেও তার উপস্থিতি দলের সার্বিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে পরিষ্কারভাবেই।

ম্যাচের পর মাঠ ছাড়ার সময় নেইমার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দর্শকদের দিকে হাত নাড়ার সময় বারবার চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাকে। পরে গ্যালারির কিনারায় গিয়ে তার সঙ্গিনী ও সন্তানদের আলিঙ্গনে জড়ানোর সময়ও কাঁদতে দেখা যায় তাকে।
লোকে যা দেখেনি, সেটিই পরে সংবাদমাধ্যমে জানালেন নেইমার।
“ম্যাচের পর যখন লকার রুমে গেলাম, পুরো একা ছিলাম… কয়েক ফোঁটা চোখের জল ফেলেছিলাম…।”
“এই সবকিছু পুনরায় ফিরে পাওয়াটা এক বিশাল স্বস্তি। কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত এটি। এই অভিজ্ঞতা আবার পেয়েছি, এজন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।”
প্রায় তিন বছর ধরে না খেললেও ৭৯ গোল নিয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার নেইমার। বিশ্বকাপে পা পড়ল তার চতুর্থবার। ২০১৪ আসর থেকে এবারের আগ পর্যন্ত আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন বিশ্বমঞ্চে।
এতদিন পর দলে ফিরে অনেকটা নতুনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে তার।
“আমি অনেকদিন দূরে ছিলাম। এখন দলটা অন্যরকম, নতুন চোখে দেখছি অনেক কিছু। এত বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে খেলতে পেরে এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুব খুশি।”
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জিতে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্স আপদের।