Published : 28 Jun 2026, 09:36 PM
আফ্রিকান ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি মিশর। মহাদেশটির সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা আফ্রিকান নেশন্স কাপের রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন তারা। কিন্তু, বিশ্বকাপ আসলেই যেন নিজেদের হারিয়ে ফেলত দলটি। তাইতো, ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে একটি জয়ের খোঁজে প্রায় শত বছর কেটে গেছে তাদের।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ মাঠে গড়াচ্ছে এবার। ৩২ থেকে দল সংখ্যা একলাফে ৪৮টিতে উন্নীত করে যৌথভাবে উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আসর- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয়।
দল বেড়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ম্যাচ। টুর্নামেন্টের আঙ্গিকেও এসেছে পরিবর্তন। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ পরিসরের এবারের আসরে মিশরের ওই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি যেমন ঘটেছে, তেমনি অনেক নতুন নতুন ঘটনা ও রেকর্ডেরও দেখা মিলছে।
৭২ ম্যাচের গ্রুপ পর্ব শেষে, ফিফার দেওয়া তথ্যে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের পথচলা।
৯২
সুদীর্ঘ ৯২ বছরের যাত্রায় অবশেষে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিশর। ফারাওদের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩৪ সালে, দ্বিতীয় আসরে। নিজেদের খেলা চতুর্থ আসরে এবং নবম ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছে দেশটি; জিকো, মোহামেদ সালাহ ও ত্রেজেগের গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ডকে।
এর আগে-পরে বেলজিয়াম ও ইরানের সঙ্গে ড্র করে শেষ বত্রিশে উঠেছে মিশর।
বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি জয়ের জন্য এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়নি আর কোনো দেশকে। প্রথম জয়ের অপেক্ষায় তাদের আগে সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করেছে নরওয়ে; ১৯৩৮ আসরে প্রথম খেলার ৫৬ বছর পর জয়ের স্বাদ পেয়েছিল তারা। আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম জয় পেতে লেগেছিল ৪৮ বছর।
পেরু, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, কানাডার লেগেছিল ৪০ বছর।
৭৮
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে ৭৮ বছর ২৭১ দিন বয়সে কুরাসাওয়ের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচের রেকর্ড গড়েন ডিক আটফোকাট।
চলতি আসর শুরুর আগে রেকর্ডটি ছিল সাবেক জার্মান কোচ অটো রিহাগেলের। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গ্রিসের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দায়িত্ব পালনের সময় যার বয়স ছিল ৭১ বছর ৩১৭ দিন।
এবার সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচের রেকর্ডটা চার দিনের মধ্যে তিনবার নতুন করে লেখা হয়।
আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৭৪ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার ডাগআউট দাঁড়িয়ে আগের রেকর্ড ভেঙে দেন উগো ব্রুশ। ওই ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পর, কয়েক মাসের বড় মিরোস্লাভ কৌবেক চেকিয়াদের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নতুন করে রেকর্ডটি গড়েন। ব্রুশের জন্ম ১৯৫২ সালের ১০ এপ্রিল, কৌবেকের জন্ম ১৯৫১ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
সেটাই পরে আবার ভেঙে দেন ছোট্ট দেশ কুরাসাওকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নিয়ে আনা আটফোকাট।
প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হতে যাচ্ছেন উগো ব্রুশ ও ঘানার কার্লোস কেইরস।
৩২
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৩২ মিনিটে তিনবার জালে বল পাঠিয়ে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে ম্যাচের শুরু থেকে দ্বিতীয় সবচেয়ে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়েন উসমান দেম্বেলে। সাত দশকের বেশি সময় ধরে রেকর্ডটি এরিখ প্রবস্টের এর দখলে; ১৯৫৪ আসরে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার হয়ে ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে হ্যাটট্রিক হয়েছে আর দুটি; আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও কাতারের বিপক্ষে কানাডার জোনাথন ডেভিডের।
১৬
একুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে ১৬টি সেভ করেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক ইলয় রুম। অনায়াসেই এটা ৯০ মিনিটের ম্যাচের হিসেবে রেকর্ড এবং অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচ মিলিয়ে তিনি স্পর্শ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টিম হাওয়ার্ডকে; ২০১৪ আসরে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে হারের ম্যাচে সমান সংখ্যক সেভ করেছিলেন তিনি।
৯
কেবল তিনটি দল এবার পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে- আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও মেক্সিকো।
৬
আসরে পথচলার শুরুতেই কুরাসাওকে ছয় গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে জার্মানি, নবাগত দলটির বিপক্ষে ম্যাচটি তারা জেতে ৭-১ গোলে।
আসরে পরবর্তীতে, কাতারকে ৬-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেয় কানাডা এবং উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে পর্তুগাল ও ইরাককে ৫-০ গোলে সেনেগাল হারায়।
জার্মানির ওই জয়ের চেয়ে এই শতাব্দীতে বড় জয় আছে কেবল তিনটি: ২০১০ আসরে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ৭-০, ২০২২ আসরে কোস্টা রিকার বিপক্ষে স্পেনের ৭-০ ও ২০০২ আসরে সৌদি আরবের বিপক্ষে জার্মানির ৮-০ গোলের জয়।
৬
প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয় বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তারপরেই আছেন লিওনেল মেসি, পাঁচ আসরে গোল করেছেন তিনি।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করার পথে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ড গড়েন রোনালদো। রেকর্ডটি ক্যামেরুনের রজার মিলার দখলে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে, নিজের দেশের সবচেয়ে কম ও বেশি বয়সে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন রোনালদো; রেকর্ডটিতে তিনি পাশে বসেছেন মাইকেল লাউড্রাপ ও মেসির পাশে।
২১৫
বিশ্বকাপের পুরো এক আসরের গোলের রেকর্ড এবার গ্রুপ পর্বেই ভেঙে গেছে, এবার এখন পর্যন্ত গোল হয়েছে ২১৫টি।
গত সাতটি আসরে দল ছিল ৩২টি করে এবং ম্যাচ হয় ৬৪টি করে। ৬৪টি ম্যাচের আসরে সর্বোচ্চ গোল হয় ২০২২ বিশ্বকাপে, ১৭২টি।
৬
হ্যাটট্রিক দিয়ে আসর শুরুর পর, তিন ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন লিওনেল মেসি।
ফ্রান্সের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে, ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ড চারটি করে গোল করেছেন।
দলের সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান আছে মেসি ও এমবাপে, ৬টি করে। দেম্বেলে, ভিনিসিউস ও জার্মানির দেনিস উন্দাফ পাঁচটি করে।
০
কেবল মেক্সিকো ও স্পেন গ্রুপ পর্বে কোনো গোল হজম না করে নকআউটে উঠেছে। মেক্সিকোর জাল অক্ষত রেখেছেন রাউল রানহেল, আর স্পেনের উনাই সিমোন।
এবারই প্রথম স্পেন কোনো গোল হজম না করে গ্রুপ পর্বের বৈতরনী পার হলো। বিশ্বকাপে ৪৩০ মিনিট গোল না খেয়ে কাটিয়ে দিলেন সিমোন।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড ৫১৭ মিনিটের, ১৯৯০ সালে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ইতালির ওয়াল্তার জেঙ্গা।
বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের থিবো কোর্তোয়া আটটি ও ব্রাজিলের আলিসন সাতটি ম্যাচে গোল হজম করেননি। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড যৌথভাবে ইংল্যান্ডের পিটার শিল্টন ও ফ্রান্সের ফাবিয়ান বার্থেজের, ১০টি করে ম্যাচ।