Published : 14 Aug 2026, 02:17 PM
মানুষের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আপত্তিকর ও গোপন ছবি চুরি করে তা অনলাইনে বিক্রি করছে একদল সাইবার অপরাধী– এমনই সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
সংস্থাটি বলেছে, হ্যাকাররা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে ব্যবহারকারীর অসতর্কতার সুযোগে ব্যক্তিগত ও গোপন বিভিন্ন ছবি হাতিয়ে নিচ্ছে।
গোয়েন্দা পরিভাষায় এসব ছবিকে ‘নন-কনসেনসুয়াল ইনটিমেট ইমেজেস’ বা এনসিআইআই বা সম্মতিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বলে। পরবর্তীতে এসব ছবি অনলাইনের অপরাধজগৎ বা ডার্ক ওয়েবের বেআইনি কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নাম, পরিচয় ও ব্যক্তিগত নানা তথ্যও ওই ছবির সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে অপরাধীরা।
এফবিআই বলছে, চেনা-অচেনা ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের জন্য অপরাধীরা নিত্যনতুন ও নানা ধরনের কায়দা ব্যবহার করছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীরা টেরই পান না যে তারা সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন।
চুরি করা এসব ছবি গোপন বিভিন্ন ফোরামে ছড়িয়ে দেওয়া বা অবৈধ কেনাবেচার বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছবির সঙ্গে ভুক্তভোগীর নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল ঠিকানা, ফোন নম্বর ও তাদের সামাজিক মাধ্যম ইউজারনেইমসহ ব্যক্তিগত তথ্য জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এফবিআই বলেছে, এসব হামলা কেবল মানুষের ব্যক্তিগত প্রাইভেসিতেই হানা দিচ্ছে না, বরং ভুক্তভোগীদের বারবার চরম ক্ষতির মুখে ফেলছে। ফলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে মতো গুরুতর অপরাধের শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীর সামাজিক মাধ্যম পেইজ ব্যবহার করেই চুরি করা এসব কনটেন্টের বিজ্ঞাপন প্রচারের মতো অনৈতিক ঘটনাও ঘটছে বলে সতর্ক করেছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।
হ্যাকিংয়ের জন্য অপরাধীরা বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। যার মধ্যে অন্যতম আগের কোনো তথ্য ফাঁসের ঘটনা থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া, ভুক্তভোগী সম্পর্কে জানা তথ্য বিশ্লেষণ করে আনুমানিক পাসওয়ার্ড দিয়ে আইডিতে ঢোকার চেষ্টা করা।
এ ছাড়া হ্যাকাররা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের বার্তা নকল করেও প্রতারণা চালায়। যেমন, গ্রাহক সেবা কর্মকর্তা সেজে কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলে হুবহু আসল মেসেজের মতো দেখতে ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নামে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এমন পরিস্থিতির মুখে পড়া এড়ানোর পথ হিসাবে এফবিআই বলেছে, সম্ভব হলে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন অ্যাকাউন্টে কোনো সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও সংরক্ষণ করা থেকে একেবারেই দূরে থাকা।
পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের কঠিন ও জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে; নাম বা জন্মতারিখের মতো সহজে অনুমান করা যায় এমন তথ্য পাসওয়ার্ডে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষের থেকে এসেছে বলে মনে হওয়া যে কোনো বার্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।
বার্তায় পাঠানো যে কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে তা ভালোভাবে যাচাই করা বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের জন্য ইমেইলের লিংকে ক্লিক না করে সরাসরি অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
সাইবার হামলার শিকার হওয়া যে কোনো ব্যক্তিকে এফবিআইয়ের বিশেষ ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগ জমা দেওয়ার সময় ছবি বা তথ্য কখন চুরি হয়েছে, কীভাবে বিষয়টি প্রথম শনাক্ত হল, কোথায় বা কোন লিংকে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং চুরির পর কোনো ধরনের হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে হয়েছে কি না তার বিস্তারিত বিবরণ দিতে বলেছে এফবিআই।