বিশ্বজুড়েই ইভি বিক্রি কমে যাওয়ায় কৌশল বদলাবে প্যানাসনিক

গোটা বিশ্বে ইভি যানের চাহিদা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এমনকি এ খাত থেকে অনুমান করা আর্থিক লাভও আসছে না।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2024, 09:18 AM
Updated : 22 Jan 2024, 09:18 AM

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ইভি কারখানা নির্মাণের আগে প্যানাসনিকের ব্যাটারি ব্যবসায় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কোম্পানির সিইও ইউকি কুসুমি।

রয়টার্সকে কুসুমি’র দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে ইঙ্গিত মেলে, ইভি বা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির চাহিদা কমে আসায় সম্ভবত উত্তর আমেরিকায় নিজেদের তৃতীয় ব্যাটারি কারখানা বানানোর পরিকল্পনা ‘আপাতত স্থগিত’ রাখতে পারে টেসলার ব্যাটারি সরবরাহক কোম্পানিটি।

এর আগে কোম্পানিটির ব্যাটারি বিভাগ প্যানাসনিক এনার্জি ঘোষণা দিয়েছিল, এ বছরের মার্চের শেষ নাগাদ, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা।

তবে প্যানাসনিকের সিইও ইউকি কুসুমি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কোম্পানি এ সিদ্ধান্ত তখনই নেবে, ‘যখন সঠিক সময় আসবে’।

“আমি ক্রমাগতই কর্মীদের বলে আসছি যে, তৃতীয় কারখানা খোলার আগে আমাদের উৎপাদন বাড়িয়ে যেতে হবে।” --শুক্রবার কোম্পানির টোকিও অংশের দপ্তর থেকে বলেন কুসুমি।

যুক্তরাষ্ট্রে ইভি’র চাহিদা কমে আসার ইঙ্গিত মেলার পরপরই কুসুমির এ মন্তব্য এল। এমনকি জেনারেল মোটর্স ও ফোর্ডের মতো শীর্ষ অটোমেকাররাও নিজস্ব উৎপাদন পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

এর আগে মার্কিন অঙ্গরাজ্য নেভাডা ও ক্যানসাসে দুটি কারখানা নির্মাণ করেছে প্যানাসনিক এনার্জি। গেল ডিসেম্বরে কোম্পানিটি জানায়, ওকলাহোমা, যেখানে তারা নতুন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করছিল, তা আর কোম্পানির বিবেচনায় নেই।

প্যানাসনিকের ব্যাটারি ইউনিটের প্রত্যাশা, ক্যানসাসের কারখানায় বার্ষিক ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ৮০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। আর ২০৩১ সাল নাগাদ তা বাড়িয়ে ঘণ্টায় দুইশ গিগাওয়াটে নেওয়া।

কুসুমি আরও বলেন, কোম্পানির ব্যাটারি বিভাগের জন্য তার মূল পরামর্শ ছিল, নতুন কারখানা চালুর আগে কোম্পানির চলমান বিনিয়োগের মধ্যেই ব্যাটারি উৎপাদনের মাত্রা বাড়ানো। আর নতুন কারখানায় যে পরিমাণ জনবল লাগবে, তা বিবেচনায় নিয়ে কুসুমি বলেন, কারখানার সংখ্যা তুলনামূলক কম রাখাই কোম্পানির জন্য লাভজনক হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, কারখানা যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের প্রক্রিয়া উন্নত করলে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর পরিস্থিতি বদলে গেলে যে কোনো কোম্পানির পরিকল্পনাই পিছিয়ে যায়।

গোটা বিশ্বে ইভি যানের চাহিদা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এমনকি নীতিনির্ধারকরা এ খাত থেকে যেমন আর্থিক লাভ আশা করেছিলেন, সেটিও পূরণ হচ্ছে না।

উচ্চ সুদের হার থাকায় ইভি এখনও যেসব মধ্যবিত্ত সাশ্রয়ী গাড়ির মডেল বাজারে আসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের নাগালের বাইরে। আর এ ধরনের সাশ্রয়ী মডেল বাজারে আনার উদ্দেশ্যে এখনও বিভিন্ন কারখানায় কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

কুসুমি আরও বলেন, প্যানাসনিক কোম্পানির ব্যাটারি বিভাগ থেকে উৎপাদন বাড়াতে চেয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট (আইআরএ)’র ওপর নির্ভর না করেই লাভের মুখ দেখা যায়, যার ফলে নতুন ইভি ব্যাটারি কারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব কোম্পানি স্থানীয়ভাবে ইভি, ব্যাটারি ও কাঁচামাল উৎপাদন বাড়াতে চায়, তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে আইআরএ’সহ আরও বেশ কিছু আইন রয়েছে দেশটিতে।